যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক কলেজ গ্র্যাজুয়েটরা চাকরির বাজারে বড় চাপের মুখে পড়েছেন। নিউইয়র্ক ফেডের তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৭ বছর বয়সী নতুন ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার সামগ্রিক শ্রমিকদের তুলনায় বেশি। অনেক গ্র্যাজুয়েট এর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে দায়ী করছেন। জিপরিক্রুটারের এক জরিপে ৪৭ শতাংশ নতুন গ্র্যাজুয়েট বলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে এআই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এরিক ব্রিনজোলফসন ও তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি আসার পর থেকে এআই-প্রভাবিত পেশায় ২২-২৫ বছর বয়সী তরুণ কর্মীদের কর্মসংস্থান আপেক্ষিকভাবে ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ কমেছে। সফটওয়্যার ডেভেলপার ও মার্কেটিংয়ের মতো পদে এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ কমেছে। এআই যেখানে মানুষের কাজ স্বয়ংক্রিয় করে, সেখানেই প্রভাব বেশি।
অন্যদিকে হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ ডেভিড ডেমিংসহ অনেকে সতর্ক। তারা বলছেন, জুনিয়র নিয়োগ কমে যাওয়ার ধারা চ্যাটজিপিটির আগেই শুরু হয়েছিল। রিমোট ওয়ার্কের প্রসার, মহামারীর পর অতিরিক্ত নিয়োগ সংশোধন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় কারণ হতে পারে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে এখনো ব্যাপক চাকরি হারানোর প্রমাণ নেই। অভিজ্ঞ কর্মীদের ক্ষেত্রে এআই বরং সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই এন্ট্রি-লেভেল কাজের প্রকৃতি বদলে দিচ্ছে। নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সিঁড়ি সংকুচিত হচ্ছে, কিন্তু পুরো চাকরি বাজার ধ্বংস হচ্ছে না। ভবিষ্যতে দক্ষতা আপডেট ও এআই ব্যবহারের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
FAQs
Q1: সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটরা কেন এআইকে দায়ী করছেন?
Ans: অনেক এন্ট্রি-লেভেল কাজ এআই দিয়ে করা সম্ভব হওয়ায় নিয়োগ কমেছে বলে তারা মনে করেন। জরিপে প্রায় অর্ধেক গ্র্যাজুয়েট এমন মত দিয়েছেন।
Q2: অর্থনীতিবিদরা কী বলছেন?
Ans: কেউ কেউ এআইয়ের প্রভাব স্বীকার করেন, বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের ক্ষেত্রে। অন্যরা বলেন, অন্যান্য কারণও গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাব এখনো সীমিত।
Q3: এআই কি সব চাকরি ধ্বংস করছে?
Ans: না। সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক চাকরি হারানোর প্রমাণ নেই। প্রভাব মূলত এন্ট্রি-লেভেল ও স্বয়ংক্রিয়যোগ্য কাজে সীমাবদ্ধ।