রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক সুবিধার অভিযোগে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে পদাবনতি দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী ৫ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের বরাতে এ সিদ্ধান্তের খবর নিশ্চিত করেছে The Daily Campus এবং bdnews24.com।
রেজিস্ট্রার জানান, শাস্তির অংশ হিসেবে ড. সুজন সেনকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি তার শিক্ষকতা ক্যারিয়ারে কার্যত ৯ বছর পিছিয়ে পড়লেন। আগামী ৫ বছরের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষে তিনি পুনরায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বিভাগে যোগদানের সুযোগ পাবেন এবং এর আরও ৪ বছর পর পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া অব্যাহতি চলাকালীন আগামী ৫ বছর তিনি কোনো প্রকার বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) পাবেন না। Bonik Barta-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বছরের ২৫ আগস্ট, যখন শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পছন্দের শিক্ষার্থীকে অনৈতিক সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের নিকট ২০০ পৃষ্ঠার একটি প্রামাণ্য অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ পর্যালোচনার পর ৯ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হলে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩’-এর ৫৫(৩) ধারায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের নেতৃত্বে উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশক্রমেই ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় এই চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হয়।