বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে এবার সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণের ডাক দিলেন সরকারের নীতিনির্ধারক। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ERF) মিলনায়তনে “বিতরণকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানি: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সৌরশক্তি সমাধান” শীর্ষক এক সেমিনারে বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে একটি জনআন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণই পারে এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে।
তিতুমীর জানিয়েছেন, এই গণআন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনেও জোর দিতে হবে। তিনি সরকারের পাঁচ দফা কৌশলের কথা জানান প্রথমত জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, দ্বিতীয়ত শিল্প বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় একটি কৌশলগত মূল্যনির্ধারণ নীতি প্রণয়ন, তৃতীয়ত আমদানিনির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি। এছাড়া তিনি বলেন, “প্রথম কাজ হলো একটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে চাহিদা তৈরি করা একবার নাগরিকরা সেই চাহিদা প্রকাশ করলে বাজার স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহ দিয়ে সাড়া দেবে।”
তিতুমীর বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশে গণ-স্বাক্ষরতা অভিযান, খাল খনন কর্মসূচি ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মতো সফল জাতীয় গণআন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা প্রমাণ করে নাগরিকদের অংশগ্রহণ জাতীয় রূপান্তর ঘটাতে পারে। তিনি সিভিল সোসাইটি, এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিষ্কার জ্বালানিতে প্রবেশাধিকারকে প্রতিটি পরিবারের অধিকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি উৎপাদন ও উন্নয়নে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর জন্য আসন্ন বাজেটে রাজস্ব সুবিধা ও আর্থিক প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
FAQ
Q1: তিতুমীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গণআন্দোলনের কথা কেন বললেন?
Ans: তিনি মনে করেন শুধু সরকারি নীতি নয়, নাগরিকদের চাহিদা তৈরি হলেই বাজার স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
Q2: সরকারের পাঁচ দফা জ্বালানি কৌশলে কী আছে?
Ans: নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বৃদ্ধি, মূল্যনীতি প্রণয়ন, স্থানীয় উৎপাদন, গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি মজুত সংরক্ষণ।
Q3: দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারীরা কী সুবিধা পাবেন?
Ans: আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য রাজস্ব সুবিধা ও আর্থিক প্রণোদনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।