আপনি কি জানেন, প্রতিদিন যে লবণ দিয়ে রান্না করেন, তার মধ্যে থাকা আয়োডিন আসলে লবণের স্বাভাবিক উপাদান নয়? এটি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়। কিন্তু কেন? স্বাদ বাড়ানোর জন্য নয়, বরং মানুষের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য।
এখানেই আসে ফাংশনাল ফুড ও ফর্টিফাইড ফুড-এর ধারণা। সাধারণ খাবার আমাদের শরীরকে শক্তি ও পুষ্টি দেয়। কিন্তু কোনো খাবার যদি এর পাশাপাশি অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদান করে, তাহলে তাকে ফাংশনাল ফুড বলা হয়। আর কোনো খাবারের মধ্যে বিশেষ পুষ্টি উপাদান যোগ করে তার পুষ্টিমান বাড়ানো হলে সেটিকে ফর্টিফাইড ফুড বলা হয়।
বাংলাদেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ এর অন্যতম উদাহরণ। লবণ মূলত স্বাদ বৃদ্ধির কাজ করলেও এতে আয়োডিন যোগ করার ফলে এটি আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। অর্থাৎ এটি শুধু একটি খাদ্য নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যমও।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়। ভারতসহ কয়েকটি দেশে ডাবল-ফর্টিফাইড সল্টে আয়োডিনের পাশাপাশি আয়রন যোগ করা হয়। জর্ডান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে গমের আটা ও ময়দায় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড যোগ করা হয়। অনেক দেশে আবার দুধে ভিটামিন ডি এবং ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালে আয়রন যোগ করে পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা হয়।
ফাংশনাল ফুডের আরও পরিচিত উদাহরণ হলো প্রোবায়োটিক দই, ওটস, গ্রিন টি এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ। এসব খাবার শরীরকে শুধু পুষ্টিই দেয় না, বরং অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগত সুবিধাও প্রদান করে। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কৌশল।
FAQs
Q1.ফাংশনাল ফুড কী?
Ans:এমন খাবার যা সাধারণ পুষ্টির পাশাপাশি অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগত উপকার প্রদান করে।
Q2.আয়োডিন কি লবণের স্বাভাবিক উপাদান?
Ans:না। আয়োডিন সাধারণত লবণের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগ করা হয়।
Q3.ফাংশনাল ফুড ও ফর্টিফাইড ফুড কি একই?
Ans:না। তবে কিছু খাবার একই সঙ্গে ফাংশনাল এবং ফর্টিফাইড উভয়ই হতে পারে।