দেশের ৩১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ সৌর-বিদ্যুৎ প্রকল্প।

বাংলাদেশ সরকারের নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রাকে বেগবান করতে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) দেশের ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ (রুপটপ সোলার) প্রকল্প চালুর এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে প্রথম ধাপে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনবে। ইউজিসি-র মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ নির্ভরতা গড়ে ২০ শতাংশ হ্রাস করা।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বিনিয়োগ পদ্ধতি। এটি সম্পূর্ণ ‘ওপেক্স’ (OPEX – Operational Expenditure) মডেলে পরিচালিত হবে, যার ফলে সরকারের কোনো প্রাথমিক পুঁজি বা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। বেসরকারি অংশীদাররাই সোলার প্যানেল স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় খরচ বহন করবে; বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে। ইতিমধ্যেই দেশের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি কোম্পানি এই গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে এই প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী। বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি ইউনিট প্রায় ১৫ টাকা। তবে ওপেক্স মডেলের পরীক্ষামূলক প্রকল্পে দেখা গেছে, এই খরচ অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে প্রতি ইউনিট মাত্র ৭.৫০ টাকা, এমনকি সক্ষমতা বাড়লে ৭.০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতের পাশাপাশি সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

FAQs

Q1.ওপেক্স (OPEX) মডেল কী এবং এর সুবিধা কী? 

Ans:ওপেক্স বা অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার মডেলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক সমস্ত খরচ (প্যানেল কেনা, বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণ) বেসরকারি বিনিয়োগকারী কোম্পানি বহন করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোনো পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় না, তারা শুধু চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক হারের চেয়ে অনেক কম দামে কিনে নেয়। 

Q2.এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে কত টাকা সাশ্রয় হবে? 

Ans:বর্তমানে জাতীয় গ্রিড বা প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের গড় খরচ যেখানে প্রতি ইউনিট প্রায় ১৫ টাকা, সেখানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে তা অর্ধেকেরও বেশি কমে মাত্র ৭.০০ থেকে ৭.৫০ টাকায় নেমে আসবে। ফলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৭.৫০ টাকা সাশ্রয় হবে। 

Q3.এই প্রকল্পে কি শুধু সরকারি অর্থায়ন ব্যবহার করা হচ্ছে?

Ans: না, এতে সরকারের কোনো সরাসরি অর্থায়ন লাগছে না। এটি একটি সম্পূর্ণ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) উদ্যোগ, যেখানে ইতিমধ্যেই দেশের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিনিয়োগের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Follow for more