মাত্র ১৫ বছর বয়সেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক অভাবনীয় বিপ্লবের সূচনা করে বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ (TIME) ম্যাগাজিনের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন ইথিওপিয়ান বংশোদ্ভূত কিশোর বিজ্ঞানী হেমান বেকেলে। তিনি এমন একটি বিশেষ সাবান আবিষ্কার করেছেন, যা মারাত্মক ত্বকের ক্যানসার—বিশেষ করে মেলানোমা (Melanoma) চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ২০২৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য তিনি ‘আমেরিকান টপ ইয়াং সায়েন্টিস্ট’ খেতাবে ভূষিত হন এবং ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে টাইমস ম্যাগাজিন তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘কিড অব দ্য ইয়ার’ (Kid of the Year) নির্বাচিত করে।
সাবানের কার্যপদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক কৌশল
হেমানের উদ্ভাবিত এই সাবানের মূল শক্তি লুকিয়ে আছে এর বিশেষ বৈজ্ঞানিক ফর্মুলেশনে। এই সাবানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত ‘ইমিকুইমোড’ (Imiquimod) নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলত ‘ট্রিপল-লিপিড ন্যানোপার্টিকেল’ বা কণার সাথে সংমিশ্রিত থাকে। সাধারণ সাবান দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেললে তা পানির সাথে চলে যায়, কিন্তু হেমানের তৈরি এই সাবানের ন্যানোপার্টিকেলগুলো গোসলের পরও ত্বকের গভীরে ও স্তরে স্তরে আটকে থাকে। ফলে ওষুধটি দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায়। এটি মূলত মানুষের ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে (Immune System) সক্রিয় করে তোলে, যা পরবর্তীতে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
বর্তমান অবস্থা ও উচ্চতর গবেষণা
ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এই সাবানটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য একটি মাধ্যম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে হেমানের এই চমৎকার গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক ল্যাব টেস্টিং বা গবেষণাগারের পরীক্ষণ পর্যায়ে রয়েছে। মানবদেহে চূড়ান্ত ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যে বর্তমানে তিনি আমেরিকার বাল্টিমোরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ‘জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ’ ল্যাবে এই সাবান নিয়ে আরও উচ্চতর ও উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই কিশোরের এমন উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
FAQs