বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টন মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার ১৫–২০ শতাংশ সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, স্যালাইনের ব্যাগ, ল্যাবরেটরির নমুনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং মানবদেহের টিস্যু—এসবই মেডিকেল বর্জ্যের অন্তর্ভুক্ত। দেশের সবচেয়ে বেশি হাসপাতাল ও রোগীর চাপ থাকায় ঢাকাতেই সর্বাধিক মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হয়, বিশেষ করে বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন কয়েক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য হলো ব্যবহৃত সুই ও সিরিঞ্জ (Sharps), যা থেকে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং এইচআইভির মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। যদিও পরিষ্কার প্লাস্টিক, কাচ ও ধাতব উপকরণের একটি অংশ জীবাণুমুক্ত করার পর নিরাপদভাবে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব, সংক্রমিত বর্জ্য নিরাপদভাবে ধ্বংস করা ছাড়া বিকল্প নেই।
উন্নত দেশগুলোতে Autoclave, Incineration, Microwave Treatment, Pyrolysis এবং Plasma Gasification প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে অটোক্লেভ ও ইনসিনারেটর ব্যবহার হলেও এখনও অনেক বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথকীকরণ ও নিষ্পত্তি করা হয় না। ফলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
অন্যদিকে, নিরাপদভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ, জীবাণুমুক্তকরণ ও রিসাইক্লিং নিশ্চিত করা গেলে পরিষ্কার প্লাস্টিক, কাচ ও ধাতব উপকরণের পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কাঁচামালের চাহিদা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমানো সম্ভব। এতে দেশের বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy) শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য খাতে সংক্রমণজনিত চিকিৎসা ব্যয়ও কমতে পারে। তাই আধুনিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ শুধু পরিবেশ সুরক্ষাই নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।