সম্প্রতি পাকিস্তানে চিকিৎসা বর্জ্য থেকে প্রায় ৫০০ কেজি মানব প্লাসেন্টা উদ্ধার এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।
প্লাসেন্টা হলো গর্ভাবস্থায় তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী অঙ্গ, যা মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের কাছে অক্সিজেন, পুষ্টি ও হরমোন পৌঁছে দেয় এবং ভ্রূণের বর্জ্য মায়ের শরীরে ফেরত পাঠায়। শিশুর জন্মের পর এর কাজ শেষ হয়ে যায় এবং এটি চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা প্লাসেন্টা শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এসব প্লাসেন্টা থেকে প্লাসেন্টাল এক্সট্র্যাক্ট ব্যবহার করে অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন, প্রসাধনী ও কিছু পুনর্জন্মমূলক (regenerative) থেরাপির উপাদান তৈরির চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামের কিছু বিকল্প চিকিৎসা ও কসমেটিকস খাতে এ ধরনের উপাদানের চাহিদা রয়েছে।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—প্লাসেন্টা-ভিত্তিক কোনো ইনজেকশন মানুষের বার্ধক্য কমায় বা আয়ু বাড়ায়, এমন FDA বা EMA অনুমোদিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিছু দেশে সীমিত চিকিৎসা বা কসমেটিক কাজে প্লাসেন্টাল এক্সট্র্যাক্ট ব্যবহৃত হলেও এর অ্যান্টি-এজিং কার্যকারিতা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
পাকিস্তানের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষ প্রমাণিত হয়নি। ঘটনাটি চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।