দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় শিল্প খাতে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তেই যদি কোনো কার্যকর বা দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামী বছর থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের শত শত শিল্পকারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্যথায় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে দেশের বিপুল কর্মসংস্থান যেমন হুমকির মুখে পড়বে, তেমনই সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি খাত বড় ধরনের ধসের সম্মুখীন হতে পারে।
চাহিদা-সরবরাহের ফারাক ও ভবিষ্যৎ পরিসংখ্যান
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে মাত্র ২৬৫.৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যার মধ্যে ১০৩.২৩ কোটি ঘনফুটই চড়া মূল্যে আমদানি করা এলএনজি (LNG)। সরকারি প্রক্ষেপণ ও তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর এই সরবরাহের পরিমাণ আরও কমে ২৬০.৭০ কোটি ঘনফুটে এবং ২০২৮ সাল নাগাদ তা ২৫৭ কোটি ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। অথচ একই সময়ে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০ কোটি ঘনফুটেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ঘাটতি শিল্প খাতকে স্থবির করে দিচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলের বাস্তব চিত্র ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানিয়েছেন, গ্যাসের লাইনে চাপ (Pressure) দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক উভয় এলাকাতেই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে গাজীপুর, আশুলিয়া, কোনাবাড়িসহ দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলের অনেক টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও ভারী কারখানা গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, নতুন সংযোগের অপেক্ষায় ঝুলে আছে প্রায় ১,৮০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যাদের কারখানা চালু করতে অতিরিক্ত আরও ৪০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন দ্রুত ফুরিয়ে এলেও নতুন অনুসন্ধান, দেশীয় উত্তোলন বৃদ্ধি কিংবা এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এই সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
FAQs