প্রতীকী মূল্যে জলিল টেক্সটাইলের ৫৪.৯৯ একর জমি পাচ্ছে সেনাবাহিনী, নীতিগত অনুমোদন

অনুচ্ছেদ ১ (ভূমিকা)

বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ‘জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-এর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ (বিওএফ) বা সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই জমি সেনাবাহিনীকে প্রতীকী মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুচ্ছেদ ২ (মিলের ইতিহাস ও পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট (ভাটিয়ারি) এলাকায় ১৯৬১ সালে ব্যক্তি মালিকানাধীন মেসার্স জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে মিলটি জাতীয়করণ করা হয়েছিল। মিলটিতে মোট জমির পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৯৯ একর। উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের ২৯ জুলাই মিলটি হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলেও তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রতীকী মূল্যে জমি হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছিল এবং এটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। সে সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় ১৭ কোটি ৫ লাখ টাকার একটি সংশোধিত প্রস্তাব আনা হলেও বর্তমান বৈঠকে চূড়ান্তভাবে এটি প্রতীকী মূল্যেই দেওয়ার অনুমোদন মিলেছে।

 অনুচ্ছেদ ৩ (বকেয়া পাওনা ও বর্তমান প্রক্রিয়া)

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতীকী মূল্য হিসেবে নির্ধারিত অর্থ বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) পক্ষ থেকে বিটিএমসিকে প্রদান করা হবে। তবে বিটিএমসির হিসাব অনুযায়ী, জলিল টেক্সটাইল মিলসের কাছে ইউটিলিটি বিলসহ সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। এছাড়া হস্তান্তর চুক্তি ও ২০২০-২১ সালের অডিট হিসাব অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের এই সরকারি উদ্দেশ্য সফল করতে হস্তান্তরের আগে এসব বকেয়া সরকারি পাওনাদি দ্রুত পরিশোধ করা প্রয়োজন।

 

FAQs

Q1: জলিল টেক্সটাইল মিলসটি কোথায় অবস্থিত এবং এর জমির পরিমাণ কত?

Ans: জলিল টেক্সটাইল মিলসটি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট (ভাটিয়ারি) এলাকায় অবস্থিত এবং এতে মোট ৫৪.৯৯ একর জমি রয়েছে।

Q2: সেনাবাহিনী এই জমিটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে?

Ans: চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ (বিওএফ) বা সরকারি সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের কাজে এই জমি ব্যবহার করা হবে।

Q3: এই জমি হস্তান্তরের চুক্তি বা মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কেমন?

Ans: জমিটি সেনাবাহিনীকে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সমরাস্ত্র কারখানার পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যের অর্থ বিটিএমসিকে দেওয়া হবে, তবে মিলের পূর্বের বকেয়া ইউটিলিটি বিল ও অডিট পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

Follow For More