২০২৬ সালের অস্কারে ২৪ বিভাগে রেকর্ড ১৬ মনোনয়ন পেয়েছে রায়ান কুগলারের সিনেমা ‘Sinners’। মুক্তির পর থেকেই এই সিনেমা মুগ্ধ করেছে দর্শক ও সমালোচকদের। তবে প্রশ্ন অনেকেরই একই—কী আছে ‘Sinners’-এ যা এত মনোনয়ন আনল?
কুগলার ঝুঁকি এবং সাফল্য
রায়ান কুগলার ‘Sinners’-এ অভিনব ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এটি ভ্যাম্পায়ার ঘরানার হরর সিনেমা হলেও, পটভূমি ১৯৩০-এর দশকের মিসিসিপি ডেল্টা ও দক্ষিণ আমেরিকা। ছবিতে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় চরিত্রের উপস্থিতি বিশেষ।
মার্ভেলের ‘Black Panther’ ফ্র্যাঞ্চাইজির খ্যাত পরিচালক হিসেবে কুগলার এবার বাজেট নিয়ন্ত্রণ, ফাইনাল কাট ও সম্পূর্ণ স্বত্ব নিজের হাতে রেখেছেন। বহু সমালোচক ভেবেছিলেন, এটি স্টুডিওর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কিন্তু ‘Sinners’ সেই সন্দেহ উড়িয়ে দিয়েছে।
বক্স অফিসে রেকর্ড
ইস্টার উইকএন্ডে (১৭ এপ্রিল ২০২৫) মুক্তি পাওয়ার পর, সিনেমাটি মাত্র কয়েকদিনে ৩৬৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এটি গত ১৫ বছরের সবচেয়ে সফল মূল (original) সিনেমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দশম সর্বোচ্চ আয় করা R-rated ফিল্ম।
গভীর গবেষণাভিত্তিক চিত্রনাট্য
‘Sinners’-এর চিত্রনাট্য মাত্র দুই মাসে লেখা হলেও, এর পেছনে বহু বছরের গবেষণা লুকিয়ে আছে।
-
মিসিসিপি ডেল্টার লোককথা
-
দাসপ্রথা-পরবর্তী কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতি
-
ব্লুজ সংগীতের ইতিহাস
এছাড়া কুগলার ১৯৩০-এর আলোকচিত্র, নেটিভ আমেরিকান মিথ, এবং দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাসকারী চীনা অভিবাসীদের ইতিহাসও চিত্রনাট্যে অন্তর্ভুক্ত।
অভিনয় ও কস্টিউমের নিখুঁত সমন্বয়
-
হেইলি স্টেইনফেল্ড মেরি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শককে চমক দিয়েছেন।
-
ডেলরয় লিন্ডো অতীতের সঙ্গে অনুসন্ধানী সংযোগ তৈরি করেন।
-
উনমি মোসাকু হলিউডের প্রচলিত সৌন্দর্য ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
-
মাইকেল বি. জর্ডান যমজ ভাই ‘স্মোক ও স্ট্যাক’ চরিত্রে সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন।
কুগলার সৃষ্ট গান, সেট ডিজাইন, কস্টিউম এবং প্রযোজনার সমন্বয় সিনেমাকে এক অনন্য শিল্পকর্মে পরিণত করেছে।
অনন্য ঘরানা ও দর্শক অভিজ্ঞতা
‘Sinners’ কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার নিয়ম মেনে চলে না। এটি হরর, ব্লুজ মিউজিক্যাল, গ্যাংস্টার থ্রিলার এবং ইতিহাসভিত্তিক ড্রামা একসঙ্গে। ট্রেলার থেকে দর্শক জানেন না গল্প কোন দিকে যাবে। ফলে, প্রতি দেখায় নতুন কিছু আবিষ্কার করার সুযোগ থাকে।
মুক্তি ও পরবর্তী সম্ভাবনা
অস্কারে ১৬ মনোনয়ন পেয়েছে ‘Sinners’। এখন দেখার বিষয়, কতগুলো পুরস্কার জিতবে। যাদের দেখা হয়নি, তারা HBO Max-এ দেখেও সিনেমার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
কুগলার মতে, “আমি সিনেমায় বিশ্বাস করি। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতায় বিশ্বাস করি। এটি সমাজের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ।”