বাংলাদেশের সিরামিক শিল্প রপ্তানিকে কেন্দ্র করে ব্যাবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বানঃ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পকে রপ্তানি সম্ভাবনার কেন্দ্র করতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান

 

বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান Bangladesh ceramics industry–কে একটি শক্তিশালী রপ্তানি খাতে রূপান্তর করতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হওয়া Ceramic Expo Bangladesh 2025–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারের ভূমিকা হবে সহযোগিতামূলক, তবে শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক প্রস্তাব নিয়ে সামনে আসতে হবে বেসরকারি খাতকে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে—এখন ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করছে দক্ষতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলার ক্ষমতার ওপর। অতীতে প্রচলিত “সংযোগনির্ভর ব্যবসার যুগ” শেষ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

সিরামিক শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন এটি এখনও পোশাক শিল্পের মতো বড় রপ্তানি আয়ের খাতে পরিণত হতে পারেনি—এ প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন। তার মতে, স্থায়ী ব্যয় প্রতিযোগিতা, ডিজাইন উদ্ভাবন, লজিস্টিক দক্ষতা, উৎপাদনশীলতার ঘাটতি এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ এখনো অতিক্রম করা যায়নি। এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানই শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

 

চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ২৫টি দেশের ১৩৫ প্রতিষ্ঠান ও ৩০০ ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে, যেখানে উপস্থিত রয়েছে প্রায় ৫০০ আন্তর্জাতিক ডেলিগেট ও ক্রেতা। মেলা জুড়ে থাকবে B2B meetings, B2C interactions, লাইভ ডেমো, সেমিনার, জব ফেয়ার, স্পট অর্ডার, নতুন পণ্যের উদ্বোধনসহ নানা আয়োজন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলা পরিদর্শন করতে পারবেন।

গত দশকে বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ৭০টিরও বেশি কারখানায় টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদন হচ্ছে, যার বার্ষিক বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ, এবং সিরামিক পণ্য এখন ৫০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক আয় আসছে। সামগ্রিকভাবে এই manufacturing sector–এ এ পর্যন্ত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার কোটির বেশি এবং কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের।

 

দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্ত করতে উদ্ভাবনী নকশা, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ ও টেকসই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিই হবে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।