জ্বর সম্পর্কে যা জানা জরুরি: কারণ, লক্ষণ ও কখন সতর্ক হবেন।

পর্বঃ১

জ্বর বা Fever শব্দটির সাথে আমরা সবাই খুব পরিচিত। আমাদের জীবনে প্রত্যেকেই একবার হলেও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন জ্বর কি অথবা এটা কেন হয়? আবার অনেকেরই জ্বর আসে এটা আবার ২/১দিনের মধ্যেই ভাল হয়ে যায়। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই আবার অনেক লম্বা সময় ধরে জ্বরে ভুগতে থাকে। কখনো যদি আপনার মনে এই রকমের প্রশ্ন জাগে তাহলে হ্যাঁ আপনার জন্যই আজকের এই লেখাটি।

জ্বর কি?

জ্বর হলো যখন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রার থেকেও বেড়ে যায়। অর্থাৎ যখন শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬.৫–৩৭.৫°C থেকে বেড়ে ৩৮°C (১০০.৪°F) বা তার বেশি হয় এবং যার ফলে আমাদের শরীর কিছুটা উষ্ণ বা গরম অনুভব করে তখন আমরা সেটাকে জ্বর বলতে পারি।

জ্বর কেন হয়?

মূলত জ্বর হচ্ছে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune system) এরই একটি অংশ। যখন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করে, তখন আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System) সক্রিয় হয়। এবং সক্রিয় হয়ে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা সেই ক্ষতিকর উপাদান গুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করে।

জ্বর হলে আমাদের শরীর কেন বা কিভাবে গরম বা উষ্ণ হয়?

যখন কোন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ক্ষতিকর কোন উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তখন আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Immune system) সক্রিয় হয়। যার ফলে আমাদের শরীরে পাইরোজেন(Pyrogen) নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। যেটি আমাদের শরীরের হাইপোথ্যালামাস(Hypothalamus) অংশে সিগন্যাল বা সংকেত পাঠায়। তখন শরীর ভাবে যে আমাদের শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে ভাই একে দ্রুত উষ্ণ করা দরকার। যার ফলে আমাদের শরীর খুব দ্রুতই গরম অনুভব করে।

জ্বরের ধরন বা প্রকারভেদ

জ্বরের স্থায়িত্বের উপর নির্ভর করে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
১. তীব্র (Acute): এটি সাধারণত ৭ দিন বা তার কম সময় ধরে থাকে। যেমন : ভাইরাল জ্বর, ফ্লু
২.সাবঅ্যাকিউট (Subacute): যখন ৭ দিন বা তার বেশি সময় ধরে জ্বর থাকে। যেমন: কিছু ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে এই জ্বর হয়।
৩. দীর্ঘস্থায়ী (Chronic): এটি সাধারণত ২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকে। যেমন: যক্ষ্মা (TB), কিছু অটোইমিউন রোগ

জ্বরের প্যাটার্ন বা ধরণের উপর ভিত্তি করে জ্বরকে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন:
Continuous Fever: তাপমাত্রা সারাদিন উঁচু থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১°C-এর কম ওঠানামা করে। যেমন: টাইফয়েড হলে জ্বরের এই রকম প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়।
Intermittent Fever: জ্বর আসে এবং চলে যায়; মাঝে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়। যেমন: ম্যালেরিয়া
Remittent Fever: জ্বর সারাদিন থাকে কিন্তু ওঠানামা করে; তবে স্বাভাবিক মাত্রায় নামে না।
Relapsing Fever: কয়েকদিন জ্বর থাকে, পরে কিছুদিন ভালো থাকে, আবার জ্বর ফিরে আসে। বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে এই ধরনের জ্বর হয়।

FAQs

Q1.জ্বর কি শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ?

Ans: জ্বর আমাদের শরীরের জন্য সব সময় খারাপ নয়। এটি মূলত আমাদের শরীরের একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ কৃত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ক্ষতিকর পদার্থগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। তবে অতিরিক্ত জ্বর শরীরের জন্য খারাপ।

Q2. কত ডিগ্রি জ্বর হলে বিপজ্জনক?

Ans: 40°C (104°F) বা তার বেশি হলে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নিতে হবে।

Q3. রাতে জ্বর বেশি আসে কেন?

Ans: এটি একটি সাধারণ ঘটনা। মূলত আমাদের শরীরে একটি Circadian Rhythm (জৈবিক ঘড়ি) কাজ করে। যার ফলে সকালে আমাদের শরীরে কম তাপমাত্রা থাকে।