যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) এক সামাজিক পোস্টে ঘোষণা করেছেন, তাঁর প্রশাসন “সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন (migration / immigration)” স্থায়ীভাবে (permanently) বন্ধ করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেননা, তার মতে, “অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন” যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও নিরাপত্তার কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলেছে।
সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে (যেখানে তিনি পোস্ট করেছেন) ট্রাম্প লিখেছেন:
“I will permanently pause migration from all Third World Countries to allow the US system to fully recover.”
সাহায্য এবং সুবিধা পাওয়া সকল “নন-সিটিজেনদের (non-citizens)” জন্য ফেডারেল ভর্তুকি, সাবসিডি এবং সোশ্যাল বেনিফিটও তিনি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন, যারা “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নেট অ্যাসেট (net asset) নয়” বা “আমাদের দেশ ভালোবাসে না”, তারা নিয়মিত অনুভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হবেন, এবং যদি পুনর্বিচারে “নো-গুড” বসলেন, তাহলে তাদের স্থায়ীভাবে দেশে আবাসিক নথি (green card) বাতিল করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার একদিন আগে, ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে, এবং অপর সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। হত্যাকারীর পরিচয় আফগান এক অভিবাসী এবং সে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পেয়েছিল। এই হামলা ও অভিবাসন্যুক্তির প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কিছু অনুমোদিত “green-card / asylum” মামলা — ট্রাম্প তার প্রশাসনের নিন্দা করে, এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তারপর থেকেই, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সীমানা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গঠনমূলক এবং তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই নীতির কারণে বহু উদ্বাস্তু, পলিতিশিবাসী এবং সেই দেশগুলোর নাগরিকরা। যারা যুদ্ধ, দারিদ্র্য বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পালিয়ে এসেছে মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা (USCIS) দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে , তারা ইতিমধ্যেই ১৯টি নির্ধারিত “উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ” দেশ থেকে গ্রীন কার্ড বা আশ্রয় প্রার্থনার ফাইলসমূহ পুনঃপর্যালোচনার নির্দেশ পেয়েছে। এই দেশগুলোর তালিকায় আফগানিস্তান, মায়ানমার, সোমালিয়া, ইয়েমেনসহ কিছু দেশ রয়েছে।
তবে আইনজীবী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “permanent pause” বলতে আইনগতভাবে কী বোঝানো হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়, কারণ অভিবাসন আইন অনুযায়ী, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা বন্ধ করা যায়, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। এবং এমন সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
একদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-নিয়ম আরও কঠোর হলে, লাখো মানুষের জন্য নতুন আশ্রয়, কাজ অথবা পুনর্বাসনের পথ বন্ধ হতে পারে।
- অন্যদিকে, বেশ কয়েক দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই পরিকল্পনা বৈশ্বিক উদ্বাস্তু সঙ্কট, দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই থাকা মানুষদের জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে।
বিশেষত, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, দারিদ্র্য বা রাজনৈতিক দমন-নির্যাতনের কবলে । তাদের পরিবর্তন-সংকুল এবং অনিশ্চয় পরিবেশে ভিক্ষার
সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।
Read more:https://dbnnewstoday.com