আলুক্ষেতে নারীশ্রমের গল্প: ঠাকুরগাঁওয়ে সংগ্রামের মধ্যেই জীবনের চলমান লড়াই

মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধ্য বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে দলবেঁধে জমি থেকে আলু তুলছিলেন একদল নারী। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথের দুপাশে ফসলি জমি, বসতঘর, স্কুল আর চায়ের দোকানের ফাঁকে ফাঁকে এই নারীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। শীতের রোদ মাথায় নিয়ে মাটির ভেতর থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত তাঁদের দিন কাটে।
মধ্য বালিয়াডাঙ্গীর আলুক্ষেতে কথা হয় রিতা রানী, সোনামণি, মেরিনা, নদী, মিনতি, সুখী ও রেজিনা বেগমসহ মোট ১৬ জন নারীশ্রমিকের সঙ্গে। তাঁরা সবাই পাশের তুলসীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নাম আলাদা হলেও তাঁদের জীবনের গল্প প্রায় একই—দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর নিরন্তর পরিশ্রম।
ষাট বছর বয়সী সোনামণির স্বামী মারা গেছেন প্রায় বিশ বছর আগে। সেই থেকে কখনো জমিতে, কখনো মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাচ্ছেন তিনি। চারজনের একটি দলে আলু তোলেন তাঁরা। এক বস্তা আলু তুলতে পান মাত্র ৩০ টাকা। দিনে কোনো কোনো সময় ১২০ থেকে ১৫০ টাকার বেশি আয় হয় না।
রেজিনা বেগমের জীবনও সংগ্রামে ভরা। ছেলেসন্তান না হওয়ায় স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। তিন মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিনমজুরির কাজ করছেন তিনি। কষ্টের মাঝেও মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন রেজিনা।
নাম সুখী হলেও সুখী বেগমের জীবন সহজ নয়। আট বছরের মেয়েকে নিয়ে একা জীবনযুদ্ধ চালাচ্ছেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর কখনো ভাইয়ের সংসারে, কখনো বোনের সংসারে দিন কাটিয়েছেন। এখন কৃষিশ্রমিকের কাজই তাঁর একমাত্র ভরসা। দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় করে সংসার চালাতে হয় তাঁকে।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজে আসতে বাধ্য হয়েছেন মেরিনা রানী। তিনি জানান, আলুর দাম কমে যাওয়ায় শ্রমের মজুরিও কমেছে। আগে এক বস্তা আলু তুললে ৪০ টাকা পাওয়া গেলেও এখন দেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। ফসলের দাম বাড়লে শ্রমিকদের আয়ও বাড়বে—এই আশায় কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।
এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব চৌধুরী জানান, বালিয়াডাঙ্গীর অনেক পরিবারই অসচ্ছল। অনেকের নিজের ভিটেমাটিও নেই। সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা পেলেই এসব পরিবার স্বস্তিতে থাকতে পারে। নারীশ্রমিকদের এই কঠোর পরিশ্রমই গ্রামের অর্থনীতির নীরব চালিকাশক্তি।

FAQ

প্রশ্ন: এই নারীশ্রমিকরা কোথায় কাজ করছেন?

উত্তর: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধ্য বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে আলুক্ষেতে কাজ করছেন তাঁরা।

প্রশ্ন: আলু তোলার মজুরি কত?

উত্তর: এক বস্তা আলু তুলতে বর্তমানে ৩০ টাকা দেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন: নারীশ্রমিকদের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

উত্তর: কম মজুরি, কাজের অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যই তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

গ্রামবাংলার জীবন, শ্রম ও মানুষের গল্প জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Follow for more