আসন্ন বোরো সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেচের সময় বিদ্যুতের ব্যবহার অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা সামাল দিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবে এপ্রিল মাসে সেচের চাপ বাড়লে মোট চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
⚡ চাহিদা মোকাবিলায় পরিকল্পনা
বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিপিডিবি সেচ পাম্প পরিচালনায় পিক আওয়ারে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের অফ-পিক সময়ে সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে সন্ধ্যার সময় বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে।
পাওয়ার সেলের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে মোট সেচ সংযোগ রয়েছে প্রায় ৪.৯৮ লাখ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৫। এ ছাড়া ২ হাজার ৬৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।
📊 চাহিদা ও উৎপাদনের পূর্বাভাস
বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট, আর সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট। চলতি বছর গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ধরা হয়েছে।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি সেচের বড় অংশ মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে স্থানান্তর করা যায়, তাহলে সন্ধ্যার পিক চাহিদা প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট কমানো সম্ভব হবে। এতে জ্বালানি সংকটে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপও কমবে।
🔋 জ্বালানি সরবরাহে উদ্যোগ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহ জোরদার করছে। একই সঙ্গে পিক আওয়ারে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক এ জে এম এরশাদ আহসান হাবিব জানিয়েছেন, সেচ মৌসুমের চাহিদা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগিরই বৈঠক করবে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এপ্রিল–মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
🏛️ সমন্বিত প্রস্তুতি
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্রুত এলএনজি টেন্ডার সম্পন্ন এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, পবিত্র রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকাল বিবেচনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্ষম তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
FAQs
প্রশ্ন ১: সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা কেন বেড়ে যায়?
উত্তর: বোরো মৌসুমে বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প চালু থাকে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বেড়ে যায়।
প্রশ্ন ২: এ বছর সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা কত হতে পারে?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার থেকে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
প্রশ্ন ৩: বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
উত্তর: অফ-পিক সময়ে সেচে উৎসাহ দেওয়া, পিক আওয়ারে সেচ পাম্প নিয়ন্ত্রণ, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন ৪: পিক আওয়ারে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার প্রস্তাব কেন দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: এতে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সেই গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা যাবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।
প্রশ্ন ৫: কৃষকদের জন্য কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কৃষকদের অফ-পিক সময়ে সেচ চালাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে সন্ধ্যার সময় বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো যায়।