আজ নেটফ্লিক্স মানেই বিঞ্জ-ওয়াচিং, অরিজিনাল সিরিজ আর গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট। কিন্তু এই আধুনিক স্ট্রিমিং সাম্রাজ্যের শুরুটা ছিল অবিশ্বাস্য রকম সাদামাটা ডাকযোগে ডিভিডি পাঠানো।
১৯৯৭ সালে রিড হেস্টিংস ও মার্ক র্যান্ডলফ যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্স শুরু করেন একটি DVD-by-mail সার্ভিস হিসেবে। গ্রাহকরা অনলাইনে সিনেমা বাছাই করত, তালিকায় যোগ দিত, আর কয়েক দিনের মধ্যেই ডাকের মাধ্যমে বাসায় পৌঁছে যেত ডিভিডি।
কোনো লেট ফি নেই, ভিডিও স্টোরে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই দেখা শেষ হলে আবার খামে ভরে পাঠিয়ে দিলেই কাজ শেষ।
এই মডেলটা জনপ্রিয় হওয়ার আসল কারণ ছিল সাবস্ক্রিপশন আইডিয়া। যেখানে তখনকার জায়ান্ট ব্লকবাস্টার প্রতি সিনেমায় টাকা নিত, সেখানে নেটফ্লিক্স চালু করল এক ফ্ল্যাট মাসিক ফি-তে আনলিমিটেড রেন্টাল। এই ছোট সিদ্ধান্তটাই গ্রাহকদের অভ্যাস পুরো বদলে দেয়।
২০০০ সালের শুরুর দিকে নেটফ্লিক্স প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারে ব্লকবাস্টারের কাছে নিজেদের বিক্রি করতে চেয়েছিল। ব্লকবাস্টার সেটাকে তুচ্ছ মনে করে ফিরিয়ে দেয়। ইতিহাস বলে সেই সিদ্ধান্তই পরে তাদের ডুবিয়ে দেয়।
সময়ের সঙ্গে নেটফ্লিক্স বুঝে ফেলে, ভবিষ্যৎ ডিভিডিতে নয় ইন্টারনেটে। ২০০৭ সালে তারা স্ট্রিমিং সার্ভিস চালু করে, ধীরে ধীরে ডিভিডি থেকে সরে এসে ডাটা, অ্যালগরিদম আর অরিজিনাল কনটেন্টে ফোকাস করে।
আজ নেটফ্লিক্স ১৯০টিরও বেশি দেশে সক্রিয় এবং বিশ্বজুড়ে বিনোদনের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে।