অবিশ্বাস্য গতিতে ঘুরছে আমাদের গ্যালাক্সির ব্ল্যাকহোল

মহাকাশের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তুগুলোর একটি হলো ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর।

আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে এক সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল—স্যাজিটেরিয়াস এ*। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই মহাজাগতিক দানব সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন গবেষণা চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাজিটেরিয়াস এ* এমন গতিতে ঘুরছে, যা প্রকৃতিতে কোনো বস্তুর পক্ষে সম্ভব সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি—অর্থাৎ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বে বর্ণিত সীমা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে এটি।
কীভাবে জানা গেল ব্ল্যাকহোলের ঘূর্ণন গতি?

ব্ল্যাকহোল সরাসরি দেখা যায় না, কারণ এর মহাকর্ষীয় টান এতই শক্তিশালী যে আলোও বের হতে পারে না। তবে এর চারপাশে থাকা উত্তপ্ত গ্যাস ও ধুলিকণার বলয়—যাকে বলা হয় অ্যাক্রিশন ডিস্ক—সেখান থেকে নির্গত আলো বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা তথ্য সংগ্রহ করেন।

ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (EHT) কয়েক বছর আগে স্যাজিটেরিয়াস এ*-এর প্রথম ছবি প্রকাশ করে। সেই বিখ্যাত কমলা রঙের আগুনের আংটির মতো ছবির ডেটা বিশ্লেষণ করেই শুরু হয় নতুন গবেষণা।
সুপারকম্পিউটার ও নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যবহার
নেদারল্যান্ডসের র‍্যাডবাউড ইউনিভার্সিটি এবং জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করে কয়েক মিলিয়ন কৃত্রিম ব্ল্যাকহোলের সিমুলেশন তৈরি করেন।

এরপর একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক প্রশিক্ষণ দিয়ে বাস্তব ও সিমুলেশন ডেটার তুলনা করে ব্ল্যাকহোলটির ঘূর্ণন গতি নির্ণয় করা হয়।

ফলাফল বলছে
—স্যাজিটেরিয়াস এ* তার তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ ঘূর্ণন সীমা বা ‘কার লিমিট’–এর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

‘কার লিমিট’ ও ফ্রেম ড্র্যাগিং কী?

পদার্থবিজ্ঞানে ব্ল্যাকহোলের ভরের ওপর নির্ভর করে তার ঘূর্ণনের একটি সর্বোচ্চ সীমা থাকে, যাকে বলা হয় কার লিমিট।

স্যাজিটেরিয়াস এ* সেই সীমা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। এর অর্থ হলো, এটি তার আশপাশের স্থান-কাল (স্পেস-টাইম)–কে শক্তভাবে নিজের সঙ্গে পেঁচিয়ে ফেলছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ফ্রেম ড্র্যাগিং।

পৃথিবী থেকে আমরা কীভাবে দেখছি?

গবেষণায় আরও জানা গেছে, ব্ল্যাকহোলটির ঘূর্ণন অক্ষ প্রায় সরাসরি পৃথিবীর দিকে নির্দেশিত। সহজভাবে বললে, আমরা এটিকে পাশ থেকে নয়—বরং অনেকটা ওপর থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখছি।
অনেকটা ঘূর্ণায়মান লাটিমের মাথার ওপর থেকে দেখার মতো।

কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ?
এটি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বকে আরও শক্তভাবে সমর্থন করে
গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলের গতিশীলতা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে
ভবিষ্যৎ ব্ল্যাকহোল গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়ায়।

FAQ

প্রশ্ন ১: স্যাজিটেরিয়াস এ* কী?

উত্তর: এটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল।

প্রশ্ন ২: এটি পৃথিবী থেকে কত দূরে?

উত্তর: প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে।

প্রশ্ন ৩: ব্ল্যাকহোলের ঘূর্ণন গতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: এটি স্পেস-টাইমের আচরণ এবং আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব যাচাই করতে সহায়তা করে।

প্রশ্ন ৪: ‘কার লিমিট’ কী?

উত্তর: ব্ল্যাকহোলের ভরের ওপর নির্ভর করে তার ঘূর্ণনের সর্বোচ্চ তাত্ত্বিক সীমাকে কার লিমিট বলা হয়।

মহাকাশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চমকপ্রদ আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

Follow for more