দুই কনুইয়ের সাহায্যে চায়ের দোকান চালিয়ে যাচ্ছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তরুণ মেহেরাব হোসাইন। সম্প্রতি উপজেলার জোড়খালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সীমাহীন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে কীভাবে তিনি আত্মসম্মান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চায়ের কাপ ধোয়া থেকে শুরু করে চিনি-আদা দেওয়া, গরম চা ঢালা ও ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া—সবই করেন কনুইয়ের ভরসায়।
মেহেরাব হোসাইন (২৪) পাঁচ বছর আগে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর দুই হাত কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। সেই দুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও থেমে যাননি তিনি। জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ২০২৩ সালে জোড়খালী বাজারে একটি ছোট চায়ের দোকান চালু করেন।
মেহেরাব গুনারিতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর জন্মের আগেই বাবা সুলতান আহম্মেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মা খাদিজাতুন কুবরা নতুন সংসার না করে একমাত্র ছেলেকে নিয়েই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে মা, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে মেহেরাবের সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনিই।
চা ছাড়াও তাঁর দোকানে পাওয়া যায় বিস্কুট, চানাচুর, বাদাম, মুড়ি, পান ও শিশুদের খাবার। বড় একটি বটগাছের নিচে টিন দিয়ে তৈরি দোকানটিই এখন তাঁদের জীবনের আশ্রয়। বাজারে আসা সাধারণ মানুষই তাঁর প্রধান ক্রেতা। দিনে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা লাভ হয় বলে জানান মেহেরাব, যা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান ভিক্ষার পথ বেছে না নিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবন চালানো মেহেরাবের দৃঢ় মনোবল তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই দোকান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, সরকারি ও বিত্তবানদের সহায়তা পেলে মেহেরাব আরও সচ্ছলভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারবেন।
মেহেরাবের ভাষায়, আল্লাহ তাঁর হাত কেড়ে নিলেও মনোবল কেড়ে নেননি। সব সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়েই তিনি জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
FAQ
প্রশ্ন: মেহেরাব হোসাইন কোথায় চায়ের দোকান চালান?
উত্তর: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী বাজারে।
প্রশ্ন: কীভাবে তিনি হাত হারান?
উত্তর: বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়।
প্রশ্ন: তাঁর আয়ের প্রধান উৎস কী?
উত্তর: চায়ের দোকান, যেখানে চা ছাড়াও হালকা নাশতা বিক্রি করেন।
প্রশ্ন: তিনি কি কোনো সরকারি সহায়তা পান?
উত্তর: তিনি বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।
মানবিক গল্প, সংগ্রামী মানুষের জীবন ও অনুপ্রেরণামূলক প্রতিবেদন পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।