গ্রেটা থুনবার্গ—মাত্র এক কণ্ঠের সাহসেই বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে, এই সুইডিশ কিশোরী তরুণ জলবায়ু আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার জীবন ও সংগ্রাম প্রমাণ করে, বয়স কখনোই বিশ্ব পরিবর্তনের পথে বাধা হতে পারে না।
গ্রেটা জন্মগ্রহণ করেন ২০১৮ সালের নয়, ২০০৩ সালের ৩রা জানুয়ারি, স্টকহোম, সুইডেন। ছোটবেলা থেকেই গ্রেটার মধ্যে ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর আগ্রহ। শিশু বয়সে তিনি দেখেন কীভাবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন ও পৃথিবীর ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ফেলে। এই সচেতনতা তাকে প্ররোচিত করে নিজের কণ্ঠ উচ্চারণ করতে।
২০১৮ সালের আগস্টে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে, গ্রেটা সুইডেনে স্থানীয় পার্লামেন্টের বাইরে এককালের স্কুল স্ট্রাইক শুরু করেন। তিনি স্কুলে না গিয়ে “স্কুল ফর ক্লাইমেট” নামে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি সরকার এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান—জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নাও।
তার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং পরের বছর বিশ্বজুড়ে অনুরূপ “Fridays for Future” আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প বয়সে গ্রেটা থুনবার্গের নেতৃত্বে হাজার হাজার যুবক-যুবতী তাদের স্কুল বা কাজের সময় বিক্ষোভে অংশ নিতে শুরু করে। তার আন্দোলন শুধুমাত্র সুইডেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরুণরা তার আহ্বান মেনে জলবায়ু সচেতনতা তৈরি করে।
গ্রেটার কাজ শুধু বিক্ষোভ বা প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছেন, যেমন UN Climate Action Summit 2019, যেখানে তিনি বিশ্বনেতাদের কড়া সমালোচনা করেন। তার স্পষ্টভাষী বক্তব্যে উঠে আসে যে—“বয়স নয়, দায়িত্বই আসল।” এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে যুবকদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং তাদেরকে পরিবেশ-বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্ররোচিত করেছে।
গ্রেটার নেতৃত্ব ও আন্দোলনের জন্য তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Right Livelihood Award, যা অনেকের কাছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সমতুল্য মনে করা হয়। এছাড়া, তিনি Time Magazine-এর Person of the Year (2019) হিসাবে নির্বাচিত হন, যা তার বৈশ্বিক প্রভাবের প্রতীক।
গ্রেটা থুনবার্গের এই গল্প তরুণদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। এটি শেখায় যে:
বয়স কখনো সীমাবদ্ধতা নয়।
একটি ব্যক্তির কণ্ঠও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সচেতনতা ও স্থিরতা থাকলে তরুণরা পৃথিবীকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে পারে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব যেমন বন্যা, খরা, এবং বায়ুমণ্ডল দূষণ সম্পর্কে তিনি বিশ্বকে সচেতন করেছেন। গ্রেটা তার “Fridays for Future” আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, ছোট বয়সের মানুষও সরকার, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীল হতে প্ররোচিত করতে পারে।
আজও গ্রেটা থুনবার্গ পরিবেশ সচেতনতা, জলবায়ু নীতি ও তরুণ নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছেন। তার উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, তরুণরা কেবল নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিই নয়, তারা বিশ্ব পরিবর্তনের শক্তিও।

❓ FAQ (Frequently Asked Questions)
প্রশ্ন ১: গ্রেটা থুনবার্গ কে?
উত্তর: গ্রেটা থুনবার্গ সুইডিশ কিশোরী, যিনি বৈশ্বিক জলবায়ু আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ২: গ্রেটা কত বয়সে তার আন্দোলন শুরু করেন?
উত্তর: মাত্র ১৫ বছর বয়সে।
প্রশ্ন ৩: Fridays for Future কী?
উত্তর: এটি গ্রেটার নেতৃত্বে শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক যুব আন্দোলন, যা জলবায়ু সচেতনতা ও নীতি পরিবর্তনের জন্য কাজ করে।
প্রশ্ন ৪: গ্রেটার কাজ তরুণদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি প্রমাণ করে যে তরুণরাও বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
👉 Follow for more
আরও বাস্তব যুব সাফল্যের গল্প, অনুপ্রেরণামূলক কনটেন্ট এবং শিক্ষামূলক লেখা পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।