কথা বলতে পারেন না, শুনতেও পান না—তবু তিন স্বর্ণজয়ী শাহরিয়ার এখন মা–বাবার গর্ব

আড়াই বছর বয়সে একটি জ্বর বদলে দিয়েছিল চাঁদমান শাহরিয়ারের পুরো জীবন। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তিনি হারান কথা বলার ক্ষমতা ও শ্রবণশক্তি। একমাত্র ছেলে হওয়ায় যে শিশুকে ঘিরে পরিবারে ছিল সীমাহীন আনন্দ, সেই আনন্দ একসময় দুশ্চিন্তায় রূপ নেয়। তবে সময় প্রমাণ করেছে—প্রতিবন্ধকতা কখনোই প্রতিভার শেষ কথা নয়।

আজ ১৯ বছর বয়সী চাঁদমান শাহরিয়ার বাংলাদেশের অন্যতম সফল অটিস্টিক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত স্পেশাল অলিম্পিক এশিয়া প্যাসিফিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় তিনি জিতেছেন তিনটি স্বর্ণপদক। পুরুষ সিঙ্গেল, পুরুষ ডাবলস ও পুরুষ ইউনিফায়েড—তিনটি ইভেন্টেই তাঁর এই কৃতিত্ব তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলেছে।

ফেনী পৌরসভার উত্তর বিরিঞ্চি এলাকার এই তরুণ ক্রীড়াবিদের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ২০১২ সালে, যখন তাঁকে ভর্তি করা হয় ফেনী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলে। এই স্কুলেই প্রথম নিজের প্রকাশের সুযোগ পান শাহরিয়ার। ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে তাঁর প্রতিভা ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে।

শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প। আজ শাহরিয়ার কেবল মা–বাবার গর্বই নন, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সম্ভাবনার প্রতীক।

FAQ

প্রশ্ন ১: চাঁদমান শাহরিয়ার কীভাবে প্রতিবন্ধী হন?

উত্তর: আড়াই বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তিনি বাক্‌ ও শ্রবণশক্তি হারান।

প্রশ্ন ২: তিনি কোন খেলায় আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করেছেন?

উত্তর: ব্যাডমিন্টনে, স্পেশাল অলিম্পিক এশিয়া প্যাসিফিক প্রতিযোগিতায়।

প্রশ্ন ৩: তিনি কয়টি স্বর্ণপদক জিতেছেন?

উত্তর: তিনটি স্বর্ণপদক।

অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প, ক্রীড়া সাফল্য ও মানবিক অর্জনের আরও খবর পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

Follow for more