দেবতাখুম বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক জলখাত (খুম)। পাহাড়ের মাঝে সংকীর্ণ পাথুরে গিরিখাতের ভেতর দিয়ে নীল স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে—এই দৃশ্যই দেবতাখুমকে বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় অ্যাডভেঞ্চার স্পটে পরিণত করেছে।
“খুম” বলতে পাহাড়ি গভীর জলখাতকে বোঝায়। দেবতাখুমের বিশেষত্ব হলো এর দীর্ঘ সরু পাথুরে পথ, দুই পাশে উঁচু পাহাড়ের দেয়াল আর মাঝখানে ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি। অনেক জায়গায় সূর্যের আলো সরাসরি পানিতে পৌঁছায় না, ফলে পানির রং গাঢ় নীল দেখায়—যা পুরো জায়গাটিকে রহস্যময় ও স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে বান্দরবান শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে রোয়াংছড়ি। রোয়াংছড়ি থেকে স্থানীয় গাইড নিয়ে নির্দিষ্ট ট্রেইল ধরে হাঁটতে হয়। কিছু অংশে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয় এবং পরে খুমের ভেতরে নেমে পানির মধ্য দিয়ে চলতে হয়। তাই গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক ও নিরাপদ।
কী কী দেখবেন
সংকীর্ণ পাহাড়ি গিরিখাত
নীল স্বচ্ছ পানি
পাথুরে প্রাকৃতিক দেয়াল
অ্যাডভেঞ্চার ট্রেকিং অভিজ্ঞতা
ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে মার্চ সবচেয়ে ভালো সময়। বর্ষাকালে পানি বেশি ও স্রোত শক্তিশালী হতে পারে, তাই নিরাপত্তা বিবেচনা জরুরি।
সতর্কতা
লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত
স্থানীয় গাইড ছাড়া প্রবেশ না করাই ভালো
পরিবেশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেক ভ্রমণকারীর দায়িত্ব
দেবতাখুম এমন একটি জায়গা যেখানে গেলে মনে হবে আপনি প্রকৃতির একদম কাঁচা রূপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—নির্জন, শান্ত এবং রোমাঞ্চকর।
FAQs:
দেবতাখুম কোথায় অবস্থিত?রোয়াংছড়ি উপজেলা, বান্দরবান।
গাইড ছাড়া যাওয়া যাবে?
না, নিরাপত্তার জন্য গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।
ভ্রমণের জন্য কত সময় লাগে?
বান্দরবান শহর থেকে যাওয়া-আসা মিলিয়ে পুরোদিন সময় রাখা ভালো।
খুমে নামতে কি সাঁতার জানতে হয়?সাঁতার জানা ভালো, তবে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করলে বেশি নিরাপদ।