বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও ক্ষমতায়নের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার নাম এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করে। নারী শিক্ষা, সামাজিক অধিকার ও সচেতনতার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশ সরকার প্রবর্তন করেছে বেগম রোকেয়া পদক। এই পদক নারীর অগ্রগতি ও সমান অধিকারের পথে কাজ করা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৯৯ সালে বেগম রোকেয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এই পদক প্রদান করা হয়। প্রতিবছর নারী শিক্ষা, সমাজসেবা, গবেষণা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং নারী নেতৃত্ব ও আত্মপ্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণার প্রতীক।
বেগম রোকেয়া পদক প্রাপ্তদের হাতে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সমাজে নারীদের অবদানকে দৃশ্যমান করা হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা হয়।
এই পদক নারী নির্যাতন, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রাম থেকে শহর—সব স্তরের নারীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া পদক।
বর্তমান বাংলাদেশে যখন নারীরা শিক্ষা, প্রশাসন, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তখন বেগম রোকেয়া পদক সেই অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। এটি প্রমাণ করে—নারীর ক্ষমতায়ন মানেই একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পথ।
২০২৫ সালে চার বিশিষ্ট নারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
এবারের বেগম রোকেয়া পদক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চার নারীকে পুরস্কৃত করেন। পুরস্কারগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষা (গবেষণা), শ্রম অধিকার (নারীর অধিকার), মানবাধিকার এবং নারী জাগরণ (ক্রীড়া)।
২০২৫ সালে বেগম রোকেয়া পদক পাওয়া ব্যক্তিরা ও তাঁদের ক্যাটাগরি হলো:
ড. রুভানা রাকিব – নারী শিক্ষা (গবেষণা): স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা ও নারীদের ক্ষমতায়নে অবদান।
কল্পনা আক্তার – নারীর অধিকার (শ্রম অধিকার): শ্রম ক্ষেত্রের নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ।
ড. নাবিলা ইদ্রিস – মানবাধিকার: মানবাধিকারের জোরালো প্রচার ও সুরক্ষায় ভূমিকা।
ঋতু পর্ণা চাকমা – নারী জাগরণ (ক্রীড়া): খেলাধুলায় নারীদের অগ্রগতি ও অনুপ্রেরণায় বিশেষ অবদান।
পুরস্কার অনুষ্ঠানটি ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার ওসমানি মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও স্মৃতি দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
বেগম রোকেয়া পদক শুধু একটি সম্মান নয়; এটি নারীর শিক্ষা, অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ ও ক্রীড়ায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
3. FAQ
প্রশ্ন ১: বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫ কারা পেয়েছেন?
উত্তর: ২০২৫ সালে চার নারী — ড. রুভানা রাকিব, কল্পনা আক্তার, ড. নাবিলা ইদ্রিস ও ঋতু পর্ণা চাকমা — বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই পদক পেয়েছেন। �
প্রশ্ন ২: কোন কোন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়?
উত্তর: নারী শিক্ষা (গবেষণা), নারীর অধিকার (শ্রম অধিকার), মানবাধিকার ও নারী জাগরণ (ক্রীড়া) ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: বেগম রোকেয়া পদকটি কখন প্রদান করা হয়?
উত্তর: এটি সাধারণত ৯ ডিসেম্বর, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম দিবস ও স্মৃতি স্মরণে দেওয়া হয়।
Follow for More
জাতীয় সম্মাননা ও সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ক আরও তথ্য পেতে আমাদের ফলো করুন এবং বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকটি দেখুন।