বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবসায়িক সমাধান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ তরুণদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সামনে পাচ্ছে নতুন দিগন্ত। বিশেষত ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা, এডটেক, ই-কমার্স এবং এগ্রিটেক খাতে উদ্ভাবন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্টার্টআপ বিনিয়োগে নতুন গতি
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। গত তিন বছরে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি তহবিল এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্মত উদ্ভাবন ও বাজার-উপযোগী সেবা বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রধান কারণ।
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় উদ্ভাবকদের উন্নয়ন ও স্কেলআপে সরকারি সহায়তাও বাড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য “স্টার্টআপ স্টিমুলাস” ও উদ্ভাবনী চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রাম নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে।
ফিনটেক ও এডটেকে দ্রুত সম্প্রসারণ
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ডিজিটাল পেমেন্ট সল্যুশন দেশের ফিনটেক খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। অনলাইন লেনদেন, বিল পরিশোধ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল সংগ্রহ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ফিনটেক স্টার্টআপগুলোর চাহিদা বাড়ছে।
অন্যদিকে এডটেক খাতে ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন কোর্স ও ভার্চুয়াল ক্লাসরুম বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে এসব সেবা বড় ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় হেলথটেকের অগ্রগতি
ভিডিও কনসালটেশন, মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক ডাক্তার বুকিং, ল্যাব রিপোর্ট ডেলিভারি ও ই-ফার্মেসি সেবা হেলথটেক খাতকে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এসব সেবার ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
এগ্রিটেক: কৃষির কাঠামো বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি
গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্টার্টআপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এগ্রিটেক খাতে। সেন্সরভিত্তিক কৃষি সেবা, ড্রোনে ফসল পর্যবেক্ষণ, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কৃষিপণ্য বিক্রি, কৃষকদের তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার তথ্য—সব মিলিয়ে কৃষি এখন আরও স্মার্ট ও লাভজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি ও প্রযুক্তির এই সংযোগ ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে দ্রুত উন্নতির পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে—
-
বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা
-
দক্ষ জনবল ঘাটতি
-
প্রযুক্তি-জ্ঞান স্বল্পতা
-
বাজার সম্প্রসারণে নীতি-গত জটিলতা
-
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা
উদ্যোক্তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সহজ বিনিয়োগ সুযোগ দিলে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উজ্জ্বল
স্টার্টআপ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত-বর্ধনশীল স্টার্টআপ হাব। প্রযুক্তি ব্যবহারের বিস্তার, তরুণ জনসংখ্যার আধিক্য এবং সরকার–বেসরকারি সহযোগিতা এই খাতকে আরও শক্তিশালী করছে।
তাদের মতে, আগামী ৫ বছরে—
-
ফিনটেকে গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ হবে
-
এডটেকে অনলাইন প্রশিক্ষণের বাজার ৩০-৪০% বাড়বে
-
এগ্রিটেকে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার ব্যবহার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে
-
হেলথটেক গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে
বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে, আর এই যাত্রায় স্টার্টআপই হতে পারে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।