
ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ প্রায় জাতীয় বাজেটের সমান: গভীর সংকটে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বা Non-Performing Loan (NPL) এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রায় জাতীয় বাজেটের সমান। এই বাস্তবতা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। একসময় উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যাংক খাত বর্তমানে নীতিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ঋণ বিতরণে সঠিক যাচাইয়ের অভাবে গভীর সংকটে পড়েছে।
রাজধানীতে আয়োজিত “Banking Sector Reforms: Challenges and Actions” শীর্ষক এক আলোচনায় এই চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, অতীতে খেলাপি ঋণের হার কাগজে-কলমে কম দেখানো হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করায় প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের এই দুরবস্থার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা। রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ এবং ঋণ আদায়ে শিথিলতা ব্যাংক ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে ভঙ্গুর করে তুলেছে। এর ফলে সৎ উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঋণখেলাপিরা বারবার সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া Bank Resolution Ordinance 2025 এবং সাম্প্রতিক কিছু সংস্কার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এসব সংস্কার কার্যকর করতে হলে ধারাবাহিকতা এবং বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু আইন করলেই হবে না, প্রয়োগে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংক সংস্কার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ব্যাংকিং খাত সংস্কার বিষয়ে স্পষ্ট ও বাস্তব প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি। কারণ শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ব্যাংক ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে—ব্যাংকিং খাত সংস্কার আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খেলাপি ঋণের এই পাহাড় পুরো অর্থনীতির জন্য বড় সংকটে পরি
ণত হতে পারে।
Read More:https://dbnnewstoday.com