কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সফটওয়্যার প্রকৌশল পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডারিও আমোদি। তাঁর মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে কোড লেখা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান মানুষের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।
আমোদি সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন শুধু সফটওয়্যার খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এআই বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অস্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে—যেখানে একদিকে থাকবে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অন্যদিকে থাকবে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ বেকারত্ব ও বাড়তে থাকা আয় বৈষম্য। এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে কোনো দেশের অর্থনীতি বছরে ৫ বা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে, অথচ কর্মসংস্থান বাড়ছে না; বরং বেকারত্ব দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি রুটিন ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। ফলে জুনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোডার ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট সংশ্লিষ্ট পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে নতুন ধরনের দক্ষতা, যেমন এআই সিস্টেম তদারকি, ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে মানুষের ভূমিকা বাড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পুনঃদক্ষতা (reskilling) ও নতুন দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। নচেৎ এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে বৈষম্য আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডো
FAQ
প্রশ্ন: এআই কি সফটওয়্যার প্রকৌশলের চাকরি কমিয়ে দেবে?
হ্যাঁ, বিশেষ করে রুটিন ও প্রাথমিক স্তরের কাজ কমতে পারে।
প্রশ্ন: সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা কীভাবে টিকে থাকতে পারেন?
এআই, ডেটা অ্যানালাইসিস ও উন্নত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে।
প্রশ্ন: এআইয়ের প্রভাব কি শুধু প্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ?
না, এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এআই, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ চাকরির বাজার নিয়ে নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।