মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেখানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে চলতি মাস থেকেই দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’-এর জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আইসিইউ সংকট ও জেলা সদরে সম্প্রসারণের দাবি
জাতীয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন সম্মেলনে দেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ ব্যবস্থার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ১.৭টি। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলা সদর হাসপাতালেই এখনো কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। এই তীব্র সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে আইসিইউ স্থাপন এবং বিদ্যমান আইসিইউগুলোর সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর জোর দাবি জানান।
নিরাপত্তা জোরদার ও বাজেটে অগ্রাধিকার
চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি মাস থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য ইউনিটে একজন প্লাটুন কমান্ডারের অধীনে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হবে। তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত জবাবদিহিতা ও নৈতিকতা বজায় রাখারও আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দাবি করেন, দেশের ৫৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির প্রতিফলন। সম্মেলনে ড্যাব নেতারাও দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের দাবি জানান।
FAQs