বাংলাদেশ সরকার ১৫৯ বছরের পুরনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ বাতিল করে নতুন “জুয়া প্রতিরোধ বিল ২০২৬” সংসদে উপস্থাপন করেছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন, যা পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই বিলটি কেবল প্রচলিত জুয়াকেই নয়, বরং অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস ফিক্সিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জুয়ার প্রচারকেও আইনের আওতায় আনতে চায়।
AI নজরদারি ও জাতীয় ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেস: কীভাবে কাজ করবে?
এই বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর প্রযুক্তিগত প্রয়োগ। বিলের ৪ নং অধ্যায়ের ৩৯ নং ধারায় একটি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেস তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে জুয়ায় জড়িতদের এনআইডি তথ্য, সিম কার্ড, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক হিসাব এবং ডিভাইস তথ্য সংকলিত রাখা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৩টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানকে জুয়া-সংক্রান্ত লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। BTRC অবৈধ ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ডোমেইন ও আইপি ঠিকানা ব্লক করবে, এবং ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মানি লন্ডারিং ট্র্যাক করবে।
শাস্তির বিধান ও সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব কী?
নতুন বিলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার আসর পরিচালনা বা পরিচালনায় সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাবে। VPN, প্রক্সি সার্ভার বা মিরর সাইটের মাধ্যমে জুয়া পরিচালনাও এই আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তবে ডেটা প্রাইভেসি ও নজরদারির পরিধি নিয়ে নাগরিক সমাজে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
FAQ
প্রশ্ন ১: জুয়া প্রতিরোধ বিল ২০২৬ কি ইতোমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে?
না, এখনো না। বিলটি সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে এবং সংসদীয় কমিটিতে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হবে।
প্রশ্ন ২: মোবাইল দিয়ে অনলাইন বেটিং করলে কি এই আইনে ধরা পড়বে?
হ্যাঁ। বিলে স্মার্টফোন, মেসেজিং অ্যাপ ও MFS অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়া খেলাকে সুস্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: জাতীয় ব্ল্যাকলিস্টে কারো নাম উঠলে কী হবে?
ব্ল্যাকলিস্টে থাকা ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ওয়ালেট ও ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে আদালতের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।