শেবাচিম হাসপাতালে রমরমা ‘লাশ-বাণিজ্য’: মরদেহ আটকে ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মরদেহ নিয়ে ডোমরুমের সেবকদের রমরমা ‘লাশ-বাণিজ্যের’ এক চরম উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। লাশঘরের সামনে স্বজনদের বুক ফাটা আহাজারি আর আর্তচিৎকারের মাঝেই সুযোগ বুঝে মৃতদেহ হস্তান্তরের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মরদেহ আটকে রেখে নির্মম টালবাহানা করা শেবাচিম হাসপাতালের নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

 টাকা দাবি ও সেবকদের টালবাহানা

সম্প্রতি জেলার মুলাদী থেকে পানিতে পড়ে অচেতন হওয়া এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে গত ৯ জুন দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ২টার মধ্যে মরদেহের অন্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও মরদেহ বুঝিয়ে না দিয়ে ঘরে তালা মেরে নিরুদ্দেশ হন সেবকেরা। মৃত শিশুটির দাদি ফজিলা বেগমের অভিযোগ, ঘণ্টার পর এসে মোখলেস মিয়া নামের এক সেবক মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় পুনরায় ঘরে তালা দিয়ে সন্ধ্যায় ফেরেন তিনি, যার ফলে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে স্বজনদের চরম ভোগান্তি।

বিক্ষোভ ও প্রতিকারহীন বাস্তবতা

হাসপাতালে ভর্তি অন্য এক রোগীর স্বজন সালমা ইসলাম জানান, একই দিন রাত ৮টার দিকে আলমগীর হোসেন হাওলাদার নামের আরেক সেবক এসে টাকার পরিমাণ কমিয়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন। তা দেওয়ার সামর্থ্যও না থাকায় সেবকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত অন্য রোগীর স্বজনেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা সেবক মোখলেসকে মারধর শুরু করলে আনসার সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা ফাহিমসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, লাশঘরকে কেন্দ্র করে এমন অরাজকতা ও হয়রানি প্রতিদিনের ঘটনা হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

 FAQs

Q1: শেবাচিম হাসপাতালে লাশ-বাণিজ্যের ঘটনাটি কোন এলাকার ভুক্তভোগীদের সাথে ঘটেছে?

Ans: বরিশালের মুলাদী এলাকা থেকে পানিতে পড়া এক শিশুকে নিয়ে আসা স্বজনদের সাথে এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণার পর মরদেহ আটকে টাকা দাবি করা হয়।

Q2: মরদেহ আটকে রেখে সেবকেরা কত টাকা দাবি করেছিলেন?

Ans: প্রাথমিকভাবে মোখলেস মিয়া নামের এক সেবক মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে আলমগীর হোসেন হাওলাদার নামের অন্য এক সেবক এসে টাকার পরিমাণ কমিয়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন।

Q3: অরাজকতার একপর্যায়ে পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে?

Ans: টাকা না পেয়ে সেবকেরা চটে গেলে হাসপাতালের অন্য রোগীর স্বজনেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সেবক মোখলেসকে মারধর শুরু করেন। পরে আনসার সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন, তবে অভিযুক্তদের কোনো শাস্তি হয়নি।

Follow for more