ঢাকার পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ তার প্রতিবেশীর একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামিসা সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিছু সময় পর তার একটি জুতা প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের সামনে পাওয়া যায়, যা পরিবারের সন্দেহের কারণ হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির মা তাকে খুঁজতে গিয়ে ফ্ল্যাটের সামনে জুতা দেখতে পান এবং বারবার দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
এরপর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩০) কে পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ফরেনসিক রিপোর্ট ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনার পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত এবং শিশু ও নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান। তারা আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সরকার জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।