নেত্রকোনার বাগড়া গ্রামের ১৯ বছর বয়সী সনি আক্তার একজন সাহসী তরুণী, যার স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য কাজ করা। তার বাবা একজন ওয়ার্কশপকর্মী এবং মা গৃহিণী। চার বোনের মধ্যে সনি মেঝ। ২০২৩ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন।
২০২৪ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে সনির জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসে পাশের উপজেলা থেকে। পরিবারের অনেকেই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছিল। কিন্তু সনি বাল্যবিবাহ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন,
“আমি আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি।”
সনির এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় সমর্থন দেন তার মা। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন, মেয়েদের আগে স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি। তাই বিয়ের প্রস্তাবটি আর এগোয়নি।
সনি যুক্ত ছিলেন ব্র্যাকের ‘স্বপ্নসারথি’ উদ্যোগের সঙ্গে। এই প্রোগ্রামের জীবনদক্ষতা সেশন তাকে নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। সেখান থেকেই তার স্বপ্ন—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া।
বয়স পূর্ণ হলে তিনি আবেদন করেন, পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ধাপে ধাপে সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত একজন সেনাসদস্য।
প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি স্বপ্নসারথির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার ভাষায়,
“স্বপ্নসারথির সেশনগুলো আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণের সাহস দিয়েছে।”
আজ সনির মা গর্বের সঙ্গে বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে মেয়ের এই সাফল্য সম্ভব হতো না।
সনির স্কুলশিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,
“সনি আমাদের গ্রামের প্রথম নারী সৈনিক। তাকে পড়াতে পেরে আমি গর্বিত। আমি চাই, আরও মেয়েরা তার মতো বড় স্বপ্ন দেখুক।”
এখন সনির গল্প শুধু তার নিজের নয়—এটি পুরো গ্রামের অনুপ্রেরণা। আগে যেসব পেশা মেয়েদের নাগালের বাইরে মনে হতো, এখন সেগুলোও সম্ভব বলে ভাবছে অনেকেই।
বর্তমানে তার বাড়ির উঠোনেই নিয়মিত জীবনদক্ষতা সেশন বসে। সনি শুধু নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাননি, বরং আশপাশের মেয়েদেরও সচেতন করছেন।