ঈদের সেমাই নিয়ে সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারি: বিভিন্ন জেলায় অভিযানে ধরা পড়ছে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই সেমাই রান্না করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর ঈদের আগে বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর উৎপাদনের অভিযোগও সামনে আসে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের অভিযানে এমন অনেক কারখানা ধরা পড়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে দেখা যায়, কিছু কারখানায় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শ্রমিকরা পায়ে মাড়িয়ে ময়দার খামির তৈরি করছিল এবং উৎপাদিত সেমাই টয়লেটের পাশের দুর্গন্ধযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। অভিযানে দুটি কারখানাকে মোট প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ খামির জব্দ করা হয়।

একই সময় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বারদুয়ারী এলাকায় আরেক অভিযানে “ডলি ফুড প্রোডাক্টস” নামে একটি সেমাই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন চলছিল এবং পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কারখানাটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২০২৬ সালের মার্চে পরিচালিত একটি অভিযানে অভিযোগ ওঠে যে সেমাই তৈরিতে এমনকি টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই অভিযোগে একটি বেকারির মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করে।

এছাড়া রাজশাহীর বিসিক শিল্প এলাকায়ও অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের কাঁচামাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি খাদ্যদ্রব্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা পেটের রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ঈদের আনন্দ যেন ভেজাল খাবারের কারণে নষ্ট না হয়—এ জন্য ভোক্তাদের সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেমাই কেনার সময় প্যাকেটের মান, উৎপাদনের তারিখ ও অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।

FAQs

প্রশ্ন: সম্প্রতি কোথায় কোথায় ভেজাল সেমাই কারখানার ঘটনা ধরা পড়েছে?

উত্তর: বগুড়া, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক অভিযানে অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল সেমাই তৈরির ঘটনা ধরা পড়েছে।

প্রশ্ন: ভেজাল সেমাইয়ে কী ধরনের সমস্যা থাকতে পারে?

উত্তর: নিম্নমানের ময়দা, পোড়া তেল বা ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রশ্ন: সেমাই কেনার সময় কীভাবে সতর্ক থাকা যায়?

উত্তর: পরিচিত ব্র্যান্ড, বিএসটিআই অনুমোদন এবং সিল করা প্যাকেট দেখে কেনা উচিত।

প্রশ্ন: প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে?

উত্তর: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারখানা বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা সচেতনতা বিষয়ক আরও তথ্য পেতে আমাদের ফলো করুন।

Follow for more