পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষে মিলছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিশেষ করে উচ্চ ফলনশীল বারি কফি-১ এবং এরাবিকা জাতের কফি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন বাণিজ্যিক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ শুরু হলেও বর্তমানে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কম খরচ, কম সময়ে ফলন এবং উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে কফি চাষকে লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে দেখছেন কৃষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাগড়াছড়ির ঢালু পাহাড়ি জমি, অনুকূল তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চারা রোপণের প্রায় দুই বছরের মধ্যেই গাছে ফলন আসতে শুরু করে, যা কৃষকদের দ্রুত বিনিয়োগ ফেরতের সুযোগ দিচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক কফি গাছ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কফি বীজ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি কফি বিন ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় চাষিরা ভালো লাভ করছেন।
স্থানীয় অনেক কৃষক ইতোমধ্যে নতুন কফি বাগান গড়ে তুলছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে খাগড়াছড়ির কফি দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
🔎 কেন জনপ্রিয় হচ্ছে কফি চাষ
কম খরচে চাষ সম্ভব
মাত্র ২ বছরেই ফলন
উচ্চ বাজারমূল্য
পাহাড়ি জমির কার্যকর ব্যবহার
রপ্তানির সম্ভাবনা
❓ FAQs
প্রশ্ন ১: খাগড়াছড়িতে কোন জাতের কফি বেশি চাষ হচ্ছে?
উত্তর: প্রধানত বারি কফি-১ এবং এরাবিকা জাতের কফি চাষ হচ্ছে।
প্রশ্ন ২: কফি গাছে কত বছরে ফলন আসে?
উত্তর: সাধারণত চারা রোপণের প্রায় ২ বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হয়।
প্রশ্ন ৩: কফি চাষ লাভজনক কেন?
উত্তর: কম খরচ, দ্রুত ফলন এবং বাজারে উচ্চ দামের কারণে এটি লাভজনক।
প্রশ্ন ৪: খাগড়াছড়ির আবহাওয়া কি কফির জন্য উপযোগী?
উত্তর: হ্যাঁ, পাহাড়ি ঢালু জমি ও অনুকূল জলবায়ু কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।