অল্প খরচে অধিক লাভ, ফরিদপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ

বিস্তারিত প্রতিবেদন
কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় ফরিদপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ। কৃষকদের কাছে এটি এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, সূর্যমুখী এমন একটি তেলবীজ ফসল যা তুলনামূলক কম পরিচর্যায় ভালো ফলন দেয়। বিশেষ করে যেখানে বোরো ধান বা অন্যান্য ফসল চাষে খরচ বেশি, সেখানে সূর্যমুখী কৃষকদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে। অনেক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করলেও প্রথম মৌসুমেই ভালো ফলন ও লাভ পেয়ে এখন বাণিজ্যিকভাবে আবাদ বাড়াচ্ছেন।
ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার মাঠজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে সূর্যমুখীর হলুদ ফুলের সমারোহ। কৃষকদের মতে, বীজ বপনের প্রায় ৯০–১০০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়, যা দ্রুত মূলধন ফেরত পেতে সহায়ক। তাছাড়া সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাজারে ক্রমেই বাড়ছে, ফলে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছেন—সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো বপন, পরিমিত সার প্রয়োগ এবং আগাছা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারলে সূর্যমুখী চাষ থেকে বিঘাপ্রতি উল্লেখযোগ্য লাভ সম্ভব। পাশাপাশি এই ফসল মাটির গঠন ভালো রাখতে সহায়তা করে, যা পরবর্তী ফসলের জন্যও উপকারী।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, সরকারি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হলে সূর্যমুখী চাষ ফরিদপুরে একটি টেকসই লাভজনক কৃষি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
🔎 কেন সূর্যমুখী চাষ লাভজনক?
কম খরচে চাষ করা যায়
তেলের বাজারে উচ্চ চাহিদা
স্বল্প সময়ে ফলন
জমির উর্বরতা বজায় রাখতে সহায়ক

❓ FAQs

প্রশ্ন ১: সূর্যমুখী চাষে খরচ কম কেন?

উত্তর: এ ফসলে সেচ ও কীটনাশকের প্রয়োজন তুলনামূলক কম, তাই মোট উৎপাদন খরচ কম হয়।

প্রশ্ন ২: সূর্যমুখী চাষে লাভ কেমন?

উত্তর: বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।

প্রশ্ন ৩: কোন সময়ে সূর্যমুখী বপন করা ভালো?

উত্তর: সাধারণত রবি মৌসুমে (নভেম্বর–ডিসেম্বর) বপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৪: সূর্যমুখী চাষে কি বেশি পানি লাগে?

উত্তর: না, অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম সেচেই ভালো ফলন সম্ভব।

Follow for more