২০২৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে একই সঙ্গে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। কৃষি এখনও দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। ধান, গম, ভুট্টা, ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে ধারাবাহিক উন্নতি দেশের খাদ্য সরবরাহকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাদ্যশস্য মজুদ ছয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ২.২১ মিলিয়ন টনে। এই মজুদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজার অস্থিরতা বা বৈশ্বিক সংকটের সময় দেশের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকার কৃষিজমি রক্ষায় নতুন নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে দেশের প্রায় ৮০% কৃষিজমি শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের জন্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে আবাদযোগ্য জমি হ্রাস না পায়। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
জাতীয় বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানসম্মত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করাও এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করছে এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান–চাল সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং বাজারে দালাল নির্ভরতা কমছে। সরকারি গুদামে সরাসরি ক্রয় কার্যক্রম কৃষকের আয় সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি ও খরার ঝুঁকি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং কৃষি শ্রমিক সংকট কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে খাদ্যে ভেজাল, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার স্থায়িত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত কৃষিনীতি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে আরও শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারে।
FAQs:
১. প্রশ্ন: সরকারি খাদ্যশস্য মজুদ বর্তমানে কত?
উত্তর: এটি ছয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ২.২১ মিলিয়ন টনে।
২. প্রশ্ন: কৃষিজমি রক্ষায় কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
উত্তর: প্রস্তাবিত খসড়া আইনে ৮০% কৃষিজমি খাদ্য উৎপাদনের জন্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
৩. প্রশ্ন: কৃষকদের জন্য কী সুবিধা বাড়ানো হয়েছে?
উত্তর: সরকারি গুদামে সরাসরি ধান–চাল সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পান।
৪. প্রশ্ন: বীজ উৎপাদনে কী পরিবর্তন আসছে?
উত্তর: জাতীয় বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানসম্মত বীজ সরবরাহে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৫. প্রশ্ন: কৃষিখাতে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা।
আরও কৃষি ও ফার্মিং সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন।