২০২৬ সালে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সুরক্ষা: বর্তমান বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও উৎকণ্ঠার সম্মুখীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থ বছরে পরীক্ষিত খাদ্য নমুনার ৩৩% নিরাপদ না হওয়া পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য যেমন পিকলস, পাউফড রাইস ও তেলভাজা খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মিলেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা উদঘাটন করে।

 

এটি প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (BFSA)–এর পরীক্ষায়, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধ, মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদক থেকে গ্রাহকের কাছে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই BFSA ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

 

আরেকদিকে, সরকারি খাদ্য শস্য স্টক ২০২৬ সালে ছয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ২.২১ মিলিয়ন টন, যা খাদ্য সুরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে। এই গুদামজাত খাদ্যশস্য নিশ্চিত করছে সংকটের সময় সাধারণ মানুষের খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

 

তবে খাদ্য নিরাপত্তা মানেই শুধু পরিমাণ নয়; নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আইনি ও নীতিগত উদ্যোগও দ্রুত এগোচ্ছে। সরকার একটি খসড়া আইনে দেশের কৃষিজমির ৮০% শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের জন্য সংরক্ষণ করার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে দ্রুত শিল্পায়ন বা বসতি সম্প্রসারণের চাপে উর্বর জমি কমে না যায়।

 

খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনকে আরও টেকসই ও স্থিতিশীল করতে এবং জাতীয় বীজ উৎপাদন বাড়াতে নীতিমালা প্রণয়ন চলছে, যা আমদানির উপর নির্ভরশীলতা কমাবে এবং কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াবে।

 

পাশাপাশি দেশজুড়ে সরকার অভ্যন্তরীণ আমন ধান সংগ্রহ ও সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান–চাল ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করেছে, যা কৃষকের উৎপাদিত পণ্যকে সেরা মূল্যে ক্রয় ও সুরক্ষিত বাজার নিশ্চিত করে।

 

এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু খাবারে ভেজাল, মান নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের নিরীক্ষণ ও কৃষিজমির সঠিক ব্যবহারের মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনও আছে। জরুরি পদক্ষেপ ও সমন্বিত নীতির মাধ্যমে এগুলো মোকাবিলা করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যের লক্ষ্য অর্জন আরও নিশ্চিত হবে।

 

3. FAQ

 

১. প্রশ্ন: ২০২৪–২৫ সালে দেশের কত অংশ খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে?

উত্তর: প্রায় ৩৩% খাদ্য নমুনা নিরাপদ না বলে শনাক্ত হয়েছে।

২. প্রশ্ন: সরকারি খাদ্য শস্য স্টক এখন কী অবস্থানে?

উত্তর: এটি ছয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ২.২১ মিলিয়ন টন।

৩. প্রশ্ন: খাদ্য নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে কী পরিকল্পনা আছে?

উত্তর: নতুন খসড়া আইনে দেশে ৮০% কৃষিজমি খাদ্য উৎপাদনের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।

৪. প্রশ্ন: কৃষকদের কী সুবিধা পাচ্ছে?

উত্তর: সরকারি গুদামে ধান–চাল সংগ্রহ ও ক্রয় কার্যক্রম জোরদার হচ্ছে।

৫. প্রশ্ন: খাদ্য নিরাপত্তায় এখনো কোন চ্যালেঞ্জ আছে?

উত্তর: ভেজাল খাদ্য, মান নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর উপাদান ও বীজ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা।

 

4. Follow for more

আরও খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত গল্প পেতে আমাদের ফলো করুন।