এই বিস্ময়কর গাছটি তৈরি করেছেন Syracuse University-এর অধ্যাপক Sam Van Aken। তিনি গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতির মাধ্যমে একটিমাত্র গাছে ৪০ ধরনের ফল ফলাতে সক্ষম হয়েছেন।
বসন্তকালে এই গাছে ডজনখানেক রঙের ফুল ফোটে। কয়েক মাস পর দেখা যায়—গাছের বিভিন্ন ডালে ঝুলছে পিচ, প্লাম, চেরি ও অ্যাপ্রিকটের মতো নানা ফল।
গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতি কী?
গ্রাফটিং একটি প্রাচীন কৃষি প্রযুক্তি, যা হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভ্যান একেন বিশেষভাবে ব্যবহার করেছেন চিপ গ্রাফটিং পদ্ধতি।
চিপ গ্রাফটিং প্রক্রিয়া:
একটি ফলন্ত গাছের ডাল থেকে কুঁড়ি নেওয়া হয়
সেটি অন্য একটি ধারক গাছের ডালে সংযুক্ত করা হয়
সময়ের সঙ্গে দুই ডালের টিস্যু এক হয়ে যায়
নতুন ডালটি মূল গাছের অংশ হয়ে ফল দিতে শুরু করে
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই গাছের সব ফলই প্রুনাস (Prunus) গণের অন্তর্ভুক্ত।
কোন কোন ফল ধরে এই গাছে?
এই ৪০ ফলের গাছে যে ফলগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হলো—
পিচ
প্লাম
চেরি
অ্যাপ্রিকট
আলমন্ড
এগুলো সবই প্রুনাস গণের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এই ফলগুলো জিনগতভাবে সম্পর্কিত, তাই একই গাছে সফলভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
এগুলো সবই প্রুনাস গণের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এই ফলগুলো জিনগতভাবে সম্পর্কিত, তাই একই গাছে সফলভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
কিন্তু আপেল ও কমলার মতো ভিন্ন গণের ফল একসঙ্গে একই গাছে ফলানো সম্ভব নয়।
শিল্প, বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংরক্ষণ
Sam Van Aken মূলত একজন ভাস্কর। তবে পাথর বা ব্রোঞ্জের বদলে তিনি কাজ করেন জীবন্ত গাছ নিয়ে। তাঁর কাছে একটি গাছ কেবল উদ্ভিদ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হওয়া একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম।
২০০৮ সালে নিউইয়র্কের একটি কৃষি গবেষণা বাগান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তিনি সেটি কিনে নেন। সেখানে অনেক দুর্লভ ফলের প্রজাতি ছিল, যা বিলুপ্তির পথে। সেগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যেই তিনি এক গাছে ৪০ ফলের প্রকল্প শুরু করেন।
প্রতিটি গাছ পূর্ণতা পেতে সময় লাগে প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর। ২০১৩-১৪ সালের দিকে প্রথম গাছটি সম্পূর্ণভাবে ৪০ ধরনের ফল দিতে শুরু করে।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
বিলুপ্তপ্রায় ফলের প্রজাতি সংরক্ষণ
কৃষি প্রযুক্তির সৃজনশীল প্রয়োগ
শিল্প ও পরিবেশের সংমিশ্রণ
জনসাধারণের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি
এই প্রকল্প প্রমাণ করে—কৃষি প্রযুক্তি শুধু খাদ্য উৎপাদনের জন্য নয়, বরং পরিবেশ ও সংস্কৃতি রক্ষার শক্তিশালী মাধ্যমও হতে পারে।
FAQs
১. এক গাছে কি সত্যিই ৪০ ধরনের ফল হয়?
হ্যাঁ, গ্রাফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে।
২. সব ধরনের ফল কি একসঙ্গে লাগানো যায়?
না। শুধুমাত্র একই গণের (যেমন প্রুনাস) ফলগুলো একসঙ্গে সফলভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
৩. এই গাছ তৈরি করতে কত সময় লাগে?
প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগে একটি পূর্ণাঙ্গ ৪০ ফলের গাছ তৈরি করতে।
৪. এটি কি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়?
না, এটি মূলত শিল্প ও সংরক্ষণমূলক প্রকল্প হিসেবে তৈরি।
এক গাছেই ৪০ ধরনের ফল—এটি শুধু কৃষি প্রযুক্তির সাফল্য নয়, বরং প্রকৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। জীবন্ত শিল্পকর্ম হিসেবে এই গাছ আমাদের শেখায়—সংরক্ষণ ও সৃজনশীলতা একসঙ্গে চলতে পারে।