প্রত্যন্ত গ্রামের নারীদের তৈরি জুতা যাচ্ছে ইউরোপ–আমেরিকায়

ইউরোপ–আমেরিকায়
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রাম—একসময় দারিদ্র্য আর মঙ্গার জন্য পরিচিত ছিল এই এলাকা। আজ সেই গ্রাম থেকেই তৈরি জুতা রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। গ্রামের হাজারো নারী এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। পরিবর্তনের এই গল্পের পেছনে রয়েছে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস।

কারখানাটিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৩ হাজার মানুষের, যার ৮০ শতাংশই নারী।

বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি—এক সফল উদ্যোগের গল্প:

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে সাড়ে ৯ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে আধুনিক এই জুতার কারখানা। এটি প্রতিষ্ঠা করেন দুই ভাই—মো. হাসানুজ্জামান ও মো. সেলিম (প্রয়াত)।

আশির দশকে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানে আবাসন ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন। পরে দেশে বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে ২০০৯ সালে নীলফামারীতে এবং ২০১২ সালে মিঠাপুকুরে হিমাগার স্থাপন করেন।

ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে তারাগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস।
বর্তমানে এই কারখানায় উৎপাদিত জুতা রপ্তানি হচ্ছে—

পোল্যান্ড

তুরস্ক

জার্মানি

কানাডা

যুক্তরাষ্ট্র

ভারতসহ আরও বিভিন্ন দেশে
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত
একসময় এই গ্রামের পুরুষেরা জীবিকার তাগিদে বাইরে চলে যেতেন। নারীরা ছিলেন ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ। এখন সেই নারীরাই পরিবারে আয়ের মূল চালিকাশক্তি।

কারখানাটির মোট কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী। নিয়মিত আয়, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ তাঁদের জীবনে এনেছে বড় পরিবর্তন। অনেক নারী এখন পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এসেছে ইতিবাচক প্রভাব।

জাতীয় স্বীকৃতি রপ্তানি খাতে অবদানের জন্য ২০২৪ সালে ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস পেয়েছে রূপালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি।

এই স্বীকৃতি শুধু প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং প্রত্যন্ত গ্রামের নারীদের পরিশ্রম ও দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
গ্রামীণ উন্নয়নের এক অনন্য মডেল

এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আন্তর্জাতিক বাজারে সফল হওয়া সম্ভব। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ এবং নারীকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান কীভাবে একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ ঘনিরামপুর।

FAQ

প্রশ্ন ১: ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামে।

প্রশ্ন ২: কারখানায় কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে?

উত্তর: প্রায় ৩ হাজার মানুষের, যার ৮০ শতাংশই নারী।

প্রশ্ন ৩: কোন কোন দেশে জুতা রপ্তানি হচ্ছে?

উত্তর: পোল্যান্ড, তুরস্ক, জার্মানি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে।

প্রশ্ন ৪: প্রতিষ্ঠানটি কী কোনো পুরস্কার পেয়েছে?

উত্তর: হ্যাঁ, ২০২৪ সালে রূপালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাংলাদেশের সফল উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণামূলক উন্নয়ন কাহিনি জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

Follow for more