পরিবেশ আমাদের চারপাশে নীরবে কাজ করে যায়—বাতাস, পানি, গাছপালা, মাটি—সবকিছু মিলেই আমাদের জীবন। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা পরিবেশকে আর জীবনের অংশ হিসেবে দেখি না; দেখি ব্যবহারযোগ্য একটি সুবিধা হিসেবে। ফলে পরিবেশ রক্ষা নয়, পরিবেশ ব্যবহারই হয়ে উঠেছে অগ্রাধিকার।
একসময় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিল সহাবস্থানের। এখন সেই সম্পর্ক অনেকটাই সুবিধাভিত্তিক। প্লাস্টিক, অতিরিক্ত ভোগবাদ, অযাচিত প্রযুক্তি ব্যবহার—সব মিলিয়ে পরিবেশ আজ ক্লান্ত। আমরা চাই দ্রুত ফল, কিন্তু তার মূল্য যে প্রকৃতি দিচ্ছে, তা ভুলে যাই।
উন্নয়ন বনাম পরিবেশ—এই দ্বন্দ্ব এখন বাস্তব। রাস্তা, কলকারখানা, শহর—সবই প্রয়োজন। কিন্তু পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে। নদী হারাচ্ছে প্রাণ, বাতাস হারাচ্ছে বিশুদ্ধতা, আর মানুষ হারাচ্ছে সুস্থতা।
আজ পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। আমরা প্রতিদিন যে সিদ্ধান্তগুলো নিই—প্লাস্টিক ব্যবহার, পানি অপচয়, গাছ কাটা—সেগুলোই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। পরিবেশ ধ্বংস হঠাৎ হয় না, এটি হয় ধীরে ধীরে, আমাদের নীরব উদাসীনতায়।
তবুও আশা আছে। এখনো অনেকেই বুঝতে শুরু করেছে—পরিবেশ রক্ষা মানেই নিজের জীবন রক্ষা। আজকের প্রজন্ম পরিবেশকে উপেক্ষা করতে চায় না; তারা শুধু চায় টেকসই উন্নয়ন, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি দু’টিই নিরাপদ।
FAQs:
প্রশ্ন: পরিবেশ দূষণ কি সত্যিই আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে?
উত্তর: হ্যাঁ, পরিবেশ দূষণ সরাসরি স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
প্রশ্ন: একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করতে পারে?
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে সচেতন ব্যবহার, কম অপচয় ও পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলে।
প্রশ্ন: উন্নয়ন কি পরিবেশ ধ্বংসের কারণ?
উত্তর: পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন ক্ষতিকর, তবে টেকসই উন্নয়ন পরিবেশবান্ধব হতে পারে।
👉 এমন আরও পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জীবনধারাভিত্তিক বিশ্লেষণ পেতে আমাদের ফলো করুন।