বিশ্ব দাবার ইতিহাসে খুব কম বয়সেই যারা নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছে, ডোম্মারাজু গুকেশ (Gukesh D) তাদের মধ্যে অন্যতম। ভারতের এই তরুণ দাবাড়ু অল্প বয়সেই অসাধারণ কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্ব দাবায় নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। তাঁর গল্প প্রমাণ করে—সাফল্যের জন্য বয়স নয়, প্রয়োজন লক্ষ্য, পরিশ্রম আর ধৈর্য।
শৈশব ও দাবার প্রতি আগ্রহ
২০০৬ সালের ২৯ মে ভারতের চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া গুকেশ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত কৌতূহলী ও মনোযোগী। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি দাবা খেলায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মা একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট—তাঁদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই গুকেশের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দ্রুত উত্থান ও রেকর্ড
গুকেশের প্রতিভা খুব দ্রুতই সবার নজরে আসে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি আন্তর্জাতিক মাস্টার (IM) এবং ১২ বছর ৭ মাস বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার (GM) উপাধি অর্জন করেন, যা তাঁকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টারদের একজন হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠোর অনুশীলন, দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচ বিশ্লেষণ এবং প্রতিনিয়ত নিজের ভুল থেকে শেখার মানসিকতা। গুকেশ প্রমাণ করেছেন—সাফল্য হঠাৎ আসে না, এটি তৈরি করতে হয় প্রতিদিনের পরিশ্রম দিয়ে।
বিশ্বমঞ্চে গুকেশ
২০২৪ সালে গুকেশ দাবা বিশ্বে নতুন ইতিহাস গড়েন। তিনি Candidates Tournament জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন—যা একজন তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য বিরল কৃতিত্ব। এরপর ২০২৪ সালের শেষ দিকে তিনি বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং সর্বকনিষ্ঠ বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নদের একজন হিসেবে পরিচিত হন।
এই অর্জন শুধু ভারতের জন্য নয়, পুরো বিশ্ব দাবা সমাজের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
মানসিক শক্তি ও শৃঙ্খলা
গুকেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা, হার মেনে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো—এই গুণগুলো তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি নিজেই বলেছেন, “হার আমাকে ভাঙে না, বরং আরও ভালো খেলতে শেখায়।”
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
গুকেশ ডি–এর গল্প তরুণদের শেখায়—
লক্ষ্য ঠিক থাকলে বয়স বাধা নয়
নিয়মিত অনুশীলন সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
ব্যর্থতা শেখার সুযোগ
মানসিক শক্তি শারীরিক দক্ষতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ
তিনি আজ বিশ্বজুড়ে লক্ষ তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।
❓ FAQs (Frequently Asked Questions)
Q1: Gukesh D কে?
👉 তিনি ভারতের একজন গ্র্যান্ডমাস্টার ও বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন।
Q2: তিনি কত বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হন?
👉 মাত্র ১২ বছর ৭ মাস বয়সে।
Q3: তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
👉 বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং সর্বকনিষ্ঠদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়া।
Q4: গুকেশ তরুণদের জন্য কেন অনুপ্রেরণামূলক?
👉 কারণ তিনি অল্প বয়সে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জন করে দেখিয়েছেন।
এমন আরও অনুপ্রেরণামূলক যুব সাফল্যের গল্প পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।