বিশ্ব সঙ্গীত ইতিহাসে খুব কম শিল্পীই আছেন, যারা শুধু গান দিয়ে নয়—ব্যবসা, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রভাবের মাধ্যমে পুরো প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এমনই এক নাম রিহানা (Rihanna)—যিনি কিশোর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করে নিজেকে আজকের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী শিল্পী ও উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রিহানার পুরো নাম Robyn Rihanna Fenty। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ বার্বাডোসে। ছোটবেলায় তার পরিবার আর্থিকভাবে খুব স্বচ্ছল ছিল না। বাবার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা। কিন্তু এই কঠিন বাস্তবতাই তাকে শক্তিশালী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও স্বাধীনচেতা করে গড়ে তোলে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে রিহানা স্থানীয় একটি ট্যালেন্ট শোতে অংশ নেন। সেখানেই আমেরিকান প্রযোজক ইভান রজার্স তার প্রতিভা লক্ষ্য করেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। ২০০৫ সালে তার প্রথম অ্যালবাম “Music of the Sun” প্রকাশিত হয় এবং দ্রুতই তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
তার সংগীত ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ—
“Umbrella”
“Diamonds”
“We Found Love”
“Work”
“Only Girl (In the World)”
এই গানগুলো শুধু চার্টের শীর্ষে ওঠেনি, বরং পপ সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। রিহানা বহু Grammy Award, Billboard Award ও MTV Award জয় করেছেন। তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম বেশি বিক্রি হওয়া নারী শিল্পী।
কিন্তু রিহানা শুধু একজন গায়িকাই নন—তিনি একজন শক্তিশালী উদ্যোক্তা। ২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Fenty Beauty—একটি প্রসাধনী ব্র্যান্ড যা বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেয়। তার ব্র্যান্ডে ৫০টিরও বেশি ত্বকের রঙের জন্য ফাউন্ডেশন চালু করা হয়, যা বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে বিপ্লব ঘটায়।
এরপর তিনি চালু করেন—
Savage X Fenty (লাঞ্জারি ব্র্যান্ড)
Fenty Skin (স্কিন কেয়ার)
এই ব্র্যান্ডগুলো নারী ক্ষমতায়ন, আত্মবিশ্বাস ও শরীর-ইতিবাচকতা (body positivity) প্রচার করে। তার ব্যবসা আজ বিলিয়ন ডলারের, এবং তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী নারী শিল্পীদের একজন।
রিহানার সামাজিক প্রভাবও বিশাল। তিনি Clara Lionel Foundation (CLF) প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জরুরি মানবিক সহায়তায় কাজ করে। তিনি—
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়েছেন
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন
করোনা মহামারিতে সহায়তা দিয়েছেন
তিনি প্রমাণ করেছেন, তারকা হওয়া মানে শুধু আলো-ঝলমল নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোও।
রিহানার ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি স্বতন্ত্র। তিনি কখনো সমাজের চাপ মেনে চলেননি; বরং নিজের শর্তে জীবন যাপন করেছেন। তার স্টাইল, ফ্যাশন সেন্স ও সাহসী সিদ্ধান্ত তাকে তরুণ প্রজন্মের রোল মডেল বানিয়েছে।
আজকের তরুণদের জন্য রিহানা একটি শক্তিশালী বার্তা—
স্বপ্ন দেখতে সাহস করো
নিজের মতো হও
পরিশ্রম করো
অন্যকে সাহায্য করো
তিনি দেখিয়েছেন, একজন শিল্পী একই সঙ্গে সফল ব্যবসায়ী, মানবতাবাদী ও সাংস্কৃতিক আইকন হতে পারেন।
সংগীত, ব্যবসা, ফ্যাশন ও মানবিকতায় রিহানা এক অনন্য উদাহরণ। তার জীবন শুধু বিনোদনের গল্প নয়—এটি সংগ্রাম, সাফল্য ও নেতৃত্বের পাঠ।
FAQ (প্রশ্নোত্তর)
Q1: রিহানা কে?
উত্তর: তিনি বার্বাডোসে জন্ম নেওয়া বিশ্বখ্যাত গায়িকা, অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা।
Q2: তার সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
উত্তর: সংগীতে বহু Grammy জয় এবং Fenty Beauty প্রতিষ্ঠা।
Q3: Fenty Beauty কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি সব ত্বকের রঙের জন্য পণ্য তৈরি করে, যা বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে বৈচিত্র্য এনেছে।
Q4: তিনি কি সামাজিক কাজে যুক্ত?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি Clara Lionel Foundation-এর মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা দেন।
Q5: তরুণদের জন্য তার বার্তা কী?
উত্তর: আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও মানবিকতা—এই তিনটি সফলতার মূল চাবিকাঠি।
Follow for more
👉 আরও অনুপ্রেরণামূলক যুব অর্জন ও সাফল্যের গল্প পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।