বাংলাদেশে শীতকাল আর আগের মতো পূর্বানুমানযোগ্য নেই। একসময় শীত মানেই ছিল সকালের হালকা কুয়াশা, দুপুরে কিছুটা রোদ আর রাতে তীব্র ঠান্ডা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অনেক এলাকায় দুপুর ১২টার পরও সূর্যের দেখা মিলছে না। জলবায়ু পরিবর্তনই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ধুলিকণা, গ্যাস নিঃসরণ এবং আর্দ্রতার অস্বাভাবিক ওঠানামার ফলে ঘন কুয়াশা তৈরি হচ্ছে। এই কুয়াশা শিশু ও বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি কুয়াশা ও ধোঁয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সূর্যালোকের ঘাটতিতে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়, যা হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্করা এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। শিশুদের মধ্যে সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার আশঙ্কা বাড়ে, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে অ্যাজমা, রক্তচাপের ওঠানামা ও জয়েন্ট পেইনের সমস্যা দেখা দেয়।
দিনের বেলায় সূর্যের তাপ না থাকায় শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতা কমে যায়, যা কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, জেলে ও দিনমজুরদের কাজ ও আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকিতে থাকে—স্কুলে যাতায়াতের সময় কুয়াশা ও কম আলো দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ায়। শিল্প ও ব্যবসা ক্ষেত্রেও কর্মদক্ষতা কমে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে।
এ কারণে শীতকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি এখন আর শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
3. FAQ
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশে শীত কেন আগের মতো নেই?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও আর্দ্রতার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে শীতের ধরন বদলে গেছে।
প্রশ্ন ২: ঘন কুয়াশা কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
উত্তর: শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
প্রশ্ন ৩: সূর্যালোক কম হলে কী সমস্যা হয়?
উত্তর: ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মানসিক অবসাদ দেখা
দিতে পারে।