স্বল্প খরচে বিশ্বজয় এবং গ্লোবাল এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ -এ ইতিহাস: $46 এআই মডেলে ভারতের $46M কোয়ান্টাম প্রকল্পকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করলো—উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজন শুধু মেধা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অদম্য সাহস। জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন Global SDG Championship 2025-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (DIU) শিক্ষার্থী ও এআই গবেষক Md. Waliul Islam Nohan। তিনি বর্তমানে Aaladin AI-এর Lead Technologist হিসেবে কর্মরত এবং তাঁর গবেষণা কাজ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, শক্তিশালী কোয়ান্টাম-সদৃশ কম্পিউটেশন অর্জনের জন্য সবসময় কোটি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হয় না। মাত্র ৪৬ ডলারের একটি এআই-চালিত সফটওয়্যার ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে তিনি এমন একটি মডেল তৈরি করেছেন, যা ১০০টিরও বেশি কিউবিট (qubits) এমুলেট করতে সক্ষম।
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক ও উদ্ভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে নোহানের গবেষণা কাজটি ভারতের প্রায় ৪৬ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা) কোয়ান্টাম প্রকল্পকেও ছাড়িয়ে যায়। এই অর্জন বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, উন্নয়নশীল দেশ থেকেও বিশ্বমানের গভীর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্ভব।
এই এআই-চালিত কোয়ান্টাম এমুলেশন ফ্রেমওয়ার্ক মূলত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান প্রদানে সক্ষম। স্বল্প ব্যয়ে জটিল কম্পিউটেশনাল সমস্যার সমাধান দেওয়ার এই ধারণা ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু গবেষণা ও শিল্পখাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে। এবং গ্লোবাল এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপ – এর মতো জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্মে এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।
এই সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ওয়ালিউল ইসলাম নোহান তাঁর এই অর্জনটি শহীদ শরীফ বিন ওসমান হাদি-এর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করেছেন। এই উৎসর্গ কেবল একজন গবেষকের মানবিক মূল্যবোধই প্রকাশ করে না, বরং দেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও প্রেরণার সঙ্গে প্রযুক্তিগত সাফল্যের একটি গভীর সংযোগ তৈরি করে।
নোহানের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার একটি শক্তিশালী প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবকদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
এবং গ্লোবাল এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপ – এ বাংলাদেশের এই সাফল্য বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করবে এবং প্রমাণ করবে—বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, বরং প্রযুক্তি উদ্ভাবনেরও একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

FAQ & Follow for More

প্রশ্ন ১: Global SDG Championship 2025 কী?
উত্তর: এটি জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যেখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্ভাবনী গবেষণা ও প্রযুক্তি সমাধান মূল্যায়ন করা হয়।

প্রশ্ন ২: Md. Waliul Islam Nohan কে?
উত্তর: তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, একজন এআই গবেষক এবং Aaladin AI-এর Lead Technologist।

প্রশ্ন ৩: তাঁর গবেষণার মূল সাফল্য কী?
উত্তর: মাত্র ৪৬ ডলারের এআই মডেল দিয়ে ৪৬ মিলিয়ন ডলারের ভারতীয় কোয়ান্টাম প্রকল্পকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

প্রশ্ন ৪: এই গবেষণার ব্যবহারিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: কম খরচে শক্তিশালী কম্পিউটেশন সুবিধা প্রদান করে SDG-ভিত্তিক গবেষণা ও শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা।

প্রশ্ন ৫: তিনি এই অর্জনটি কাকে উৎসর্গ করেছেন?
উত্তর: তিনি তাঁর এই সাফল্য শহীদ শরীফ বিন ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

আরও এমন আন্তর্জাতিক সাফল্যের গল্প পেতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।