
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ নিরাপত্তা জোরদারে বিমানের কর্মীদের বডি ক্যামেরা চালু
যাত্রীসেবা ও লাগেজ নিরাপত্তা আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (HSIA) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য বডি ক্যামেরা চালু করা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই লাগেজ হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা চুরির মতো অভিযোগ যাত্রীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল। এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের Ground Handling Agent (GHA) হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যে দায়িত্ব পালন করে, তার আওতায় এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রাফিক স্টাফ ও লাগেজ পরিবহনে নিয়োজিত কর্মীদের বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে, যা লাগেজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করবে।
এই ক্যামেরাগুলো বিমানের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামানো, কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে পরিবহন, স্টোরেজ এরিয়া এবং শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের কাছে লাগেজ হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিও আকারে ধারণ করতে সক্ষম। ফলে কোনো অভিযোগ উঠলে সংরক্ষিত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এই ব্যবস্থা শুধু বিমানের নিজস্ব ফ্লাইটে নয়, বরং যেসব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রদান করে, সেসব ফ্লাইটেও কার্যকর হবে। এর ফলে দেশি ও বিদেশি উভয় যাত্রীর জন্য একই মানের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে লাগেজ চুরি বা ক্ষতির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব আরও বাড়বে, কারণ প্রতিটি কার্যক্রম রেকর্ডের আওতায় থাকবে। এটি একদিকে যেমন যাত্রীদের আস্থা বাড়াবে, অন্যদিকে বিমানবন্দরের সামগ্রিক সেবার মান উন্নত করবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মানোন্নয়ন এবং যাত্রীদের বিশ্বাস অর্জনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। যাত্রী নিরাপত্তা, সেবার গুণগত মান এবং স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে তাদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করছে।
এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পথ খুলে যাবে। ফলে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Read More:https://dbnnewstoday.com