
ঢাকায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা অননুমোদিত বা ‘নন-রেজিস্টার্ড’ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্লক করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছে। আজ দুপুরে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল মার্কেট। বিশেষ করে, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররম, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি জানায় যে নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস কন্ট্রোল (NAC) সিস্টেম ব্যবহার করে অননুমোদিত বা অবৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলোর নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে দেশে যেসব মোবাইল আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র ছাড়াই বাজারে এসেছে বা ব্যক্তিগতভাবে আনা হয়েছে, সেগুলো আর নেটওয়ার্কে কাজ করবে না।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বাজারে প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ মোবাইল হ্যান্ডসেট এখনো নন-রেজিস্টার্ড, এবং এগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসার অংশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাজার হাজার ছোট ব্যবসায়ী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অনেক ক্ষুদ্র দোকানি ও খুচরা বিক্রেতা জানান, তাদের দোকানে থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্যান্ডসেট রাতারাতি “অকার্যকর স্টকে” পরিণত হবে, যার মূল্য তারা আর ফিরে পাবেন না।
এ কারণে ব্যবসায়ীরা আজ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান, যেখানে তাদের প্রধান দাবি ছিল:
১) অননুমোদিত হ্যান্ডসেট ব্লক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার
২) মোবাইল আমদানির উপর আরোপিত শুল্ক (Tax) কমানো
৩) ব্যবসায়ীদের জন্য সময় ও নীতিগত সহায়তা প্রদান
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকারের উচিত হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে আগে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, NAC সিস্টেম কার্যকর করার আগে “জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন”, “গ্রেস পিরিয়ড” এবং “ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা” নিশ্চিত করতে হবে।
ভুক্তভোগী ভোক্তারাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফোনও হঠাৎ নেটওয়ার্কহীন হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে ফোন এনেছেন বা অনলাইন মার্কেট থেকে কিনেছেন।
অপরদিকে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ আমদানি বন্ধ এবং সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আজকের বিক্ষোভের ফলে কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে দুপুরের পর। ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে আরও বড় কর্ম
সূচি ঘোষণা করা হবে।
Read More : https://dbnnewstoday.com