নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের একটি গুহায় ১০ লাখ বছরের পুরানো জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই বিশাল জীবাশ্ম ভাণ্ডার প্রাচীন এক বনের পরিবেশ ও বিলুপ্ত প্রাণিজগতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।
আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ম্যাগাজিন পপুলার মেকানিক্স–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কার ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া এক অধ্যায়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কী কী জীবাশ্ম পাওয়া গেছে?
গবেষণায় পাওয়া গেছে—
১২ প্রজাতির প্রাচীন পাখির জীবাশ্ম
৪ প্রজাতির ব্যাঙের জীবাশ্ম
একাধিক সম্পূর্ণ নতুন পাখির প্রজাতি
সব মিলিয়ে, এই জীবাশ্মগুলো এমন এক প্রাচীন বিশ্বের চিত্র তুলে ধরেছে যা বর্তমান নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মানুষের আগমনের আগেই বিলুপ্তি
ধারণা করা হয়, নিউজিল্যান্ডে আধুনিক মানুষের আগমন ঘটে প্রায় ৭৫০ বছর আগে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বীপটিতে অনেক প্রজাতি মানুষের আগমনের বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে যায়।
গবেষণার সহ-লেখক ও ক্যান্টারবেরি মিউজিয়ামের কিউরেটর পল স্কোফিল্ড জানান, প্রায় ১০ লাখ বছরের ব্যবধানে দ্বীপটির ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছিল।
এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন
ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের স্তরের মাঝে জীবাশ্ম
গবেষকরা জীবাশ্মগুলো পেয়েছেন আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের দুটি স্তরের মাঝখানে।
প্রথম অগ্নুৎপাত: প্রায় ১৫.৫ লাখ বছর আগে
দ্বিতীয় অগ্নুৎপাত: প্রায় ১০ লাখ বছর আগে
এই দুই স্তরের মাঝেই সংরক্ষিত ছিল প্রাচীন প্রাণিজগতের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
নতুন প্রজাতির তোতা পাখি নিয়ে উত্তেজনাস
বচেয়ে আলোচিত আবিষ্কার হলো নতুন প্রজাতির এক তোতা পাখি, যা নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত ডানাভারী পাখি ‘কাকাপো’র প্রাচীন আত্মীয়।
গবেষকদের ধারণা—
আধুনিক কাকাপো উড়তে না পারলেও এর পূর্বপুরুষ সম্ভবত উড়তে পারত
প্রাচীন পাখিটির পা আধুনিক কাকাপোর তুলনায় দুর্বল ছিল
গাছে চড়ায় এটি ততটা দক্ষ ছিল না
তবে এটি সত্যিই উড়তে পারত কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষকদের মন্তব্য
গবেষণার প্রধান লেখক ও ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ট্রেভর ওয়ার্থি বলেন,
“নিউজিল্যান্ডের পাখিদের বিলুপ্তির ঘটনাকে এতদিন মূলত মানুষের আগমনের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। কিন্তু এই গবেষণা প্রমাণ করে, প্রাকৃতিক শক্তি যেমন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও নাটকীয় জলবায়ু পরিবর্তন বহু আগেই বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এনেছিল।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
এই ১০ লাখ বছরের পুরানো জীবাশ্ম—
প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ুর তথ্য দিচ্ছে
বিলুপ্তির প্রকৃত কারণ বোঝাতে সহায়তা করছে
নিউজিল্যান্ডের জীববৈচিত্র্যের নতুন ইতিহাস তুলে ধরছে
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক প্রাণিজগত বোঝার ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি।