দেশি নারী উদ্যোক্তার আন্তর্জাতিক সাফল্য: “Unlock Her Future Prize 2025” অর্জন

বাংলাদেশের তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনন্য অর্জন যোগ হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সম্প্রতি এক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সম্মানজনক “Unlock Her Future Prize 2025” পুরস্কার অর্জন করেছেন। এই বৈশ্বিক পুরস্কারটি প্রতি বছর এমন উদ্ভাবনী নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে দেওয়া হয়, যেগুলো সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান বা টেকসই উন্নয়নকে সামনে নিয়ে আসে।

 

এই বছর বিভিন্ন দেশের শত শত আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড বাংলাদেশের এই উদ্যোক্তাকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করে। তাঁর উদ্যোগটি মূলত বাংলাদেশের নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। বিশেষত শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সমাধান তৈরিতে বিশেষ নজর দেয়।

 

পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ী উদ্যোক্তা পাচ্ছেন মেন্টরশিপ, বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিং সুযোগ, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা। যা তাঁর উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নারীদের অংশগ্রহণকে আরও বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নজর বাংলাদেশে টেনে আনবে।

 

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, “আমরা এমন নারী উদ্যোক্তাদের খুঁজে থাকি যারা শুধু ব্যবসা নয়, বরং সমাজের সমস্যার টেকসই সমাধান দিতে চান। বাংলাদেশের বিজয়ী উদ্যোক্তা তার উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়ে সেই মানদণ্ডকে সফলভাবে পূরণ করেছেন।”

 

বাংলাদেশে নারী নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির পরিবেশ এখন আগের তুলনায় অনেক উন্নত হলেও এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে পুঁজি সংগ্রহ, বাজারে প্রবেশ, ডিজিটাল স্কিলস, নিরাপদ কর্মপরিবেশসহ আরও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা। এই পুরস্কার প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা, নেটওয়ার্কিং এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে বাংলাদেশের নারীরা বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে সক্ষম।

 

বিজয়ী উদ্যোক্তা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই পুরস্কার শুধু আমার নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ নারী উদ্যোক্তার। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে বিশ্বকে বদলে দিতে পারব। আমার লক্ষ্য হলো দেশের নারীদের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়া।”

 

এই অর্জন বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ খুলে দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা

মনে করছেন।