আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয়, আর সেই থেকে সংস্থাটির যাত্রা শুরু। এ বছর দিবসটি জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার ৮১তম বার্ষিকী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোয় একটি সম্মেলন হয়। সেখানেই জাতিসংঘ সনদ তৈরি ও স্বাক্ষরিত হয়। সনদের মূল লক্ষ্য ছিল আগামী প্রজন্মকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, আর এর শুরুতেই ‘আমরা জনগণ’ কথাটি রাখা হয়েছে। চীন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং অধিকাংশ স্বাক্ষরকারী দেশ সনদ অনুমোদন করার পর ২৪ অক্টোবর তা কার্যকর হয়। তখন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ৫১টি দেশ। বর্তমানে সদস্য ১৯৩টি। সনদ কার্যকর হওয়ার এই দিনটিই তাই সংস্থাটির প্রকৃত জন্মদিন হিসেবে ধরা হয়।
‘জাতিসংঘ দিবস’ ধারণাটি আরও পুরোনো। ১৯৪২ সালের ১৪ জুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির দেশগুলো ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই নামে একটি দিন পালন করেছিল। পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৭ সালে ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭১ সালে সদস্য দেশগুলোকে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালনের সুপারিশ করা হয়, তবে বেশির ভাগ দেশে এটি ছুটি নয়।
১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দেয়। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক মিশনে সামরিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর মাধ্যমে দেশটি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শুরু করে। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনে প্রথমবার বাংলাদেশ পুলিশ অংশ নেয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষ তিন দেশের একটি এবং ৫ হাজার ৬৭৭ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে কাজ করছিলেন।
জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে, আর এর ছয়টি প্রধান অঙ্গের মধ্যে আছে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। ২০২৫ সালে সংস্থাটির ৮০ বছর পূর্তিতে ‘ঐক্য’ ও ‘আমাদের ভবিষ্যৎ একসঙ্গে গড়ি’ ভাবনা সামনে আসে। দিবসটির মূল বার্তা প্রতিবছর একই থাকে: দেশগুলো আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে।
জাতিসংঘ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বের সমস্যা একা কোনো দেশ সমাধান করতে পারে না। সহযোগিতাই এর স্থায়ী পথ।