ধ্বংসের মুখে রংপুরের পোল্ট্রি শিল্প, একে একে ব্যবসা ছাড়ছেন খামারিরা

বিরূপ আবহাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বহুজাতিক কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে রংপুরের পোল্ট্রি শিল্প।

লাগাতার লোকসানের মুখে পড়ে জেলার বহু খামারি একে একে মুরগি পালন বন্ধ করে দিচ্ছেন। সরকারি সহায়তা ছাড়া এই শিল্প টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর জেলার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া এলাকার খামারি আখিদুল ইসলাম মানু তিনটি শেডে প্রায় ৮ হাজার মুরগি নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। তবে খাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় লোকসানের মুখে পড়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। আখিদুল ইসলাম বলেন, “মুরগির বাজার খারাপ থাকায় লোকসানের বোঝা আর বহন করতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি।”

এমন পরিস্থিতিতে শুধু আখিদুল ইসলাম নন, জেলার অনেক খামারিই পোল্ট্রি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। খামারিদের অভিযোগ, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো একচেটিয়াভাবে খাদ্য ও বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই পেশা দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০০৪ সাল থেকে রংপুর অঞ্চলে খামারভিত্তিক পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। একসময় এখানে লক্ষাধিক মুরগির বড় বড় খামার ছিল। তবে ২০০৭ সালে অ্যাভিয়ান ফ্লু এবং ২০১৯ সাল থেকে পোল্ট্রি খাদ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ও করপোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাবে শিল্পটিতে বড় ধস নামে।

রংপুর জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরমানুর রহমান লিংকন বলেন, খামারিরা যখন পুঁজি হারাচ্ছেন, তখন করপোরেট কোম্পানিগুলো কম দামে ডিম কিনে বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর বলছে, আধুনিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক খামারি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহ. নাজমুল হুদা জানান, খামারিরা যদি নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা নেন এবং উৎপাদন খরচ কমাতে পারেন, তাহলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে রংপুর বিভাগে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও বন্ধ মিলিয়ে মোট খামারের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ২১৬টি।

FAQ

প্রশ্ন ১: রংপুরে পোল্ট্রি শিল্প সংকটে পড়ার প্রধান কারণ কী?

উত্তর: খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বহুজাতিক কোম্পানির সিন্ডিকেট, বাজার অস্থিরতা ও বিরূপ আবহাওয়া।

প্রশ্ন ২: কেন খামারিরা ব্যবসা বন্ধ করছেন?

উত্তর: লাগাতার লোকসান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে।

প্রশ্ন ৩: পোল্ট্রি শিল্প বাঁচাতে কী প্রয়োজন?

উত্তর: সরকারি সহায়তা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যের দাম কমানো এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা।

প্রশ্ন ৪: রংপুর বিভাগে মোট খামারের সংখ্যা কত?

উত্তর: প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ২১৬টি (চালু, বন্ধ ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে)।

কৃষি, পোল্ট্রি শিল্প ও অর্থনীতি সংক্রান্ত সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

Follow for more